সর্বশেষ খবর
হাসপাতালে শুয়ে মোদীর সঙ্গে ভিডিয়ো কল, কান্নায় ভাঙলেন ‘বীর’ স্মিত
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাঝ-আকাশে রক্তাক্ত শরীরে লড়াই করে ১৭৪ জন বিমান যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে আজ তিনি বিশ্বজুড়ে হিরো। তবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে নিজের প্রশংসা শুনে আর চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না ফ্লাইদুবাই (flydubai) বিমানের সেই সাহসী ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার (স্মিত মছর)। আবু ধাবির হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত দিয়ে যখন তিনি চোখ মুছছিলেন, তখন মোবাইলের ভিডিয়ো কলের ওপারে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবারের এই আবেগঘন কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সরাসরি ‘বীরপুরুষ’ বলে সম্বোধন করে তাঁর অসীম সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ককপিটের সেই হাড়হিম করা ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্মিত জানান, “আমি জানতাম সেদিন যদি লড়াই করতে না পারতাম, তবে সবার মৃত্যু নিশ্চিত ছিল।” গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে মাঝ-আকাশে সহ-পাইলট আচমকাই স্মিতের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায় এবং বিমানটি ক্র্যাশ করার চেষ্টা করে। গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে গিয়েও অদম্য সাহসের পরিচয় দেন স্মিত। তিনি কোনওরকমে ককপিটের দরজা খুলে দিতেই বিমানের অন্য ক্রু ও যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন এবং বিমানটি সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদ জরুরি অবতরণ করে।
ভিডিয়ো কলে কথা বলার সময় ৩৯ বছর বয়সি স্মিত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজে ফোন করে আমাকে সাহস দিচ্ছেন, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্পেশাল মুহূর্ত।” মোদী তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনার জন্য গোটা দেশ প্রার্থনা করছে। আপনার যখনই কোনও প্রয়োজন হবে, জানবেন আমি মাত্র একটি ফোন কলের দূরত্বে রয়েছি।” স্মিতের এই সাহসিকতা ৯/১১-র মতো বড় বিমান বিপর্যয় রুখে দিয়ে বিশ্বের দরবারে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই অসামান্য বীরত্বের জন্য গুজরাত সরকারের তরফ থেকে তাঁকে ‘বিশিষ্ট গুজরাত গরিমা পুরস্কার’ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

