সর্বশেষ খবর
নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: হাই-ভোল্টেজ উপনির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে নিজের খাসতালুক নন্দীগ্রামে এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক চাল দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের দেবীপুর হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত একটি নির্বাচনী সভা থেকে তিনি এলাকার সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশে সরাসরি বন্ধুত্বের বার্তা দেন। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে পথ চলার আহ্বান জানান।
এদিনের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে চেনা আগ্রাসী মেজাজের বাইরে সম্পূর্ণ এক নতুন ভঙ্গিতে দেখা যায়। সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে টেনে তিনি বলেন, “আপনারা কি আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবেন? বন্ধুত্ব করুন, এটাই সুযোগ। এত দিন দূরে থাকলেও আর মুখ ফিরিয়ে থাকবেন না। আসুন, একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে উন্নয়নের অংশীদার আপনিও হবেন।” আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সেই বিশেষ দিনটিকে প্রতীকীভাবে ‘বন্ধুত্ব দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “৬ অক্টোবর একটি শুভ দিন। বন্ধুত্বের হাত মেলানোর এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর পাবেন না। সেদিন ভোট দিতে আসব, দেখা হবে। আপনিও ভোট দেবেন, আমিও ভোট দেব।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্য অত্যন্ত কৌশলী। অতীতে এই অঞ্চলে মেরুকরণের রাজনীতি তীব্র হলেও, উপনির্বাচনের আবহে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরাতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই নমনীয় অবস্থান। অতীতের দূরত্বকে মুছে ফেলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমান রাজ্য সরকার কোনও প্রকার বৈষম্যে বিশ্বাসী নয়। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি নিয়ে সংখ্যালঘুদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আমরা এই স্লোগান দিই, কিন্তু আপনাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেব না। আপনারা চাইলে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে পারেন।” বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়েছে, তাই তাদের পিছনে না ঘুরে শাসক দলের সঙ্গে এসে উন্নয়নের অংশীদার হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

