টেস্টটিউব ভেঙে বিপত্তি? সাইবেরিয়ায় গবেষকের রহস্যমৃত্যুতে ঘনীভূত প্লেগ-আতঙ্ক
নিজস্ব প্রতিনিধি: গবেষণাগারের চার দেওয়ালে নিখুঁত সাবধানতাই শেষ কথা। কিন্তু এক লহমার অসাবধানতা যে কী চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তা প্রমাণ করল সাইবেরিয়ার এক ঘটনা। গবেষণাগারে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত টেস্টটিউব ভেঙে গিয়ে জীবন্ত ব্যাকটিরিয়ার সংস্পর্শে চলে আসেন ২৮ বছর বয়সি তরুণী গবেষক দারিয়া শিপিলোভা। আর তার মাত্র দু’দিনের মাথায় তীব্র নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রহস্য ও আতঙ্ক।
রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের একটি প্রথম সারির ‘অ্যান্টি-প্লেগ’ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন দারিয়া। সম্প্রতি গবেষণার কাজে তিনি বাইরে গিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, সেখানে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর সময় আচমকাই তাঁর হাত থেকে একটি টেস্টটিউব পড়ে ভেঙে যায়। ওই টেস্টটিউবটিতে এক ধরনের বিপজ্জনক ও জীবিত ব্যাকটিরিয়া রাখা ছিল। এই দুর্ঘটনার ঠিক পর পরই দারিয়া তীব্র নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার কোনো সুযোগ না দিয়ে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণী।
এই আকস্মিক মৃত্যুর পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। দারিয়া প্লেগের অত্যন্ত সংক্রামক রূপ ‘নিউমোনিক প্লেগ’-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়। সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় দারিয়ার সংস্পর্শে আসা এবং যে হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেখানকার কর্মীসহ প্রায় ২০০ জনকে ইতিমধ্যেই কড়া চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ও কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালটিতে সাধারণের প্রবেশ সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
যদিও স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি সূত্রে এখনও পর্যন্ত দারিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে প্লেগের সরাসরি কোনো যোগসূত্র থাকার অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। চিকিৎসকেরা একে আপাতত ‘অজানা কারণে সৃষ্ট তীব্র নিউমোনিয়া’ হিসেবেই দেখছেন। তবে গোটা ইরকুতস্ক অঞ্চল জুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সরকারি স্তরে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ওই ল্যাবের বায়ো-সেফটি প্রোটোকল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

