অপরাধ করলে প্রাণ যাবে, সমাজবিরোধীদের মনে এই ভয় ধরাতে হবে: সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানীতে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনায় এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় (Delhi-NCR) সাম্প্রতিক একাধিক গণধর্ষণের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় দিল্লি পুলিশকে আরও কঠোর মনোভাব দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যাদের মধ্যে যৌন অপরাধের প্রবণতা রয়েছে, সেই সমস্ত সমাজবিরোধীদের মনের মধ্যে আইনের চরম ভীতি তৈরি করতে হবে। এমন অপরাধ করলে নিজের প্রাণ যেতে পারে— অপরাধীদের মনে এই ভয়টা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
এ দিন শুনানির সময় বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ দিল্লি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে কড়া বার্তা দেয়। আদালতের কথায়, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে, যাতে অপরাধীরা বুঝতে পারে— ‘এমন কিছু করেছো, তো মরেছো’ (অব কুছ কিয়া তো মর জায়েঙ্গে)।” বিচারপতিরা জানান, অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তার চেয়েও অনেক বেশি জরুরি হলো অপরাধ যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।
সম্প্রতি দিল্লির কালকাজি এলাকার একটি পার্কে ১৭ বছর বয়সি কিশোরীকে গণধর্ষণ, স্বরূপ নগরে নাবালিকাকে নির্যাতনের পর খুন এবং চলন্ত বাসে দীর্ঘ পথ জুড়ে এক নাবালিকার ওপর যৌন হেনস্থার মতো একাধিক নৃশংস ঘটনা ঘটে গেছে। এই সব ঘটনার প্রেক্ষিতেই কড়া অবস্থান নিয়েছে শীর্ষ আদালত।
বেঞ্চের মন্তব্য, শুধু খাতায়-কলমে নিয়ম তৈরি করলেই চলবে না, পুলিশকে মাঠে নেমে কঠোর অ্যাকশন নিতে হবে। প্রয়োজনে কড়া ও রূঢ় পদক্ষেপ করতেও যেন দ্বিধা না করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ, উৎসবের মরশুমে শহরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, মেট্রো স্টেশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে নজরদারি ও টহলদারি দ্বিগুণ বাড়াতে হবে, যাতে দিল্লির প্রতিটি কোণে মহিলারা রাতেও সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করেন।

