বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
অবকাশ

প্রথা ভেঙে তপোবনে আজও ঘোরে ৩৫০ বছরের পিতলের রথ

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬
প্রথা ভেঙে তপোবনে আজও ঘোরে ৩৫০ বছরের পিতলের রথ
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

বিশেষ প্রতিবেদন: সাধারণত আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রার উৎসবে মেতে ওঠে আপামর বাঙালি। কিন্তু বাঁকুড়া জেলার ওন্দা ব্লকের অন্তর্গত দ্বারকেশ্বর নদের তীরবর্তী প্রত্যন্ত সানতোড়-তপোবন গ্রামের রথযাত্রা সব অর্থেই ব্যতিক্রমী এবং লোকগাথায় মোড়া। এখানে রথযাত্রা আষাঢ় মাসে হয় না, বরং যখন বিজয়া দশমীতে মা দুর্গার বিদায়ের সুরে গোটা বাংলার মন খারাপ থাকে, ঠিক তখন থেকেই শ্রীরামচন্দ্রের আরাধনায় এক অনন্য উৎসবে মেতে ওঠে এই জনপদ। প্রায় ৩৫০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী মেলা এবং শ্রীরামচন্দ্রের রথযাত্রা আজও রাঢ়বঙ্গের এক অনন্য সাংস্কৃতিক নিদর্শন।

তপোবন গ্রামের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে এক গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে।  লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ত্রেতাযুগে লঙ্কা জয়ের পর সীতা, লক্ষ্মণ এবং বানরসেনাদের সঙ্গে নিয়ে অযোধ্যায় ফেরার পথে স্বয়ং শ্রীরামচন্দ্র দ্বারকেশ্বর নদের তীরে এই মনোরম ও শান্ত গ্রামে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়েছিলেন। সেই সময় এই অঞ্চলের মুনি-ঋষিরা পরম ভক্তিতে শ্রীরামের সেবা করেছিলেন। কথিত আছে, সেই পৌরাণিক স্মৃতি ও সেবার ধারাকে আবহমান কাল ধরে বাঁচিয়ে রাখতেই গ্রামবাসীরা যুগ যুগ ধরে এখানে শ্রীরামচন্দ্র, লক্ষ্মণ ও সীতাদেবীর পুজো করে আসছেন।

এই রথযাত্রার সূচনার ইতিহাস অত্যন্ত আকর্ষণীয়। প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী, একসময় বর্ষাকালে দ্বারকেশ্বর নদের উত্তাল স্রোতে অলৌকিক উপায়ে বড় বড় নিমকাঠ ভেসে আসত। স্থানীয় বাসিন্দারা নদী থেকে সেই পবিত্র নিমকাঠ সংগ্রহ করে পরম যত্নে তৈরি করতেন শ্রীরামচন্দ্রের কাঠের রথ। বহুকাল ধরে এই কাঠের রথ টানার পর, পরবর্তীতে গ্রামবাসীদের উদ্যোগে একটি সুদৃশ্য পিতলের রথ নির্মাণ করা হয়। তবে ইতিহাসের মোড়ে এই রথকে কেন্দ্র করে এক বড় বিপর্যয় ঘটেছিল। বহু বছর আগে চোরের দল এই মূল্যবান পিতলের রথটি টুকরো টুকরো করে কেটে চুরি করে নিয়ে পালায়। পরবর্তীতে গ্রামবাসীদের তৎপরতায় এবং পুলিশের সহায়তায় রথের কয়েকটি কাটা অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সেই উদ্ধার হওয়া প্রাচীন অংশগুলি জোড়া দিয়েই পুনরায় তৈরি করা হয় বর্তমানের রথটি, যা আজও সগৌরবে এই মেলায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 

তপোবনের শ্রীরামচন্দ্রের এই রথযাত্রা কোনো একক গ্রামের উৎসব নয়, এটি আসলে রাঢ়বঙ্গের এক পলি-সংস্কৃতি। সোনাতাপোল, শানতোর, নতুনগ্রাম, মালাতোর এবং বালিয়াড়া— এই পাঁচটি পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই উৎসব ও মেলার আয়োজন সফল করে তোলেন। বিজয়া দশমীর দিন শ্রীরামচন্দ্রের মূল মন্দিরে বিশেষ বৈদিক পুজো পাঠের পর এই রথ টানা হয়। রশিতে টান দিতে ভিড় জমান দূর-দূরান্তের হাজার হাজার মানুষ। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এখানে টানা আট দিন ধরে এক বিশাল মেলা বসে, যা স্থানীয় অর্থনীতি এবং লোকশিল্পীদের অন্যতম বড় মিলনক্ষেত্র।

আরও অবকাশ খবর