বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জীবনযাপন

পেনিসও ভাঙতে পারে?

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬
পেনিসও ভাঙতে পারে?
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: “পেনিসও ভাঙতে পারে?” — শুনতে অবাক লাগলেও এটি সত্যি! বেশ কিছু বছর আগের কথা। সুমন (নাম পরিবর্তিত), পেশায় একজন ড্রাইভার। হঠাৎ একদিন সকালে ফোন করে খুব উদ্বিগ্ন গলায় বললেন, “স্যার, পেনিসটা খুব ফুলে গেছে, ব্যথাও হচ্ছে।”
আমি তাঁকে দ্রুত আসতে বললাম।
পরীক্ষা করে বুঝলাম, এটি Penile Fracture বা পেনিসের ফ্র্যাকচার। আমি আমার সহকর্মী একজন সার্জনের কাছে রেফার করি। দ্রুত অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়। অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীকালে তাঁর যৌন জীবনে কোনো উল্লেখযোগ্য অসুবিধা হয়নি। এমনকি পরে তিনি বাবা-ও হয়েছেন।

এই ঘটনাটি বলার কারণ হলো— অনেক মানুষ জানেনই না যে পেনিসও “ভাঙতে” পারে, এবং এটি একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থা। Penile Fracture বা পেনিস ফ্র্যাকচার কী? অনেকেই ভাবেন পেনিসে তো হাড় নেই, তাহলে আবার ফ্র্যাকচার কীভাবে? আসলে পেনিসে কোনো হাড় নেই।
উত্থানের সময় পেনিসের ভেতরে রক্তে ভরা দুটি নলাকার গঠন (Corpora Cavernosa) শক্ত হয়ে যায়। এগুলিকে ঘিরে থাকে একটি শক্ত আবরণ, যার নাম Tunica Albuginea। এই আবরণ হঠাৎ ছিঁড়ে গেলে তাকে Penile Fracture বলা হয়।

কিন্তু কেন হয় এরকম? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কারণ হলো উত্থিত (erect) অবস্থায় পেনিসে হঠাৎ অতিরিক্ত বাঁক বা আঘাত লাগা। কীভাবে হয়? সাধারণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে - যৌন মিলনের সময় পেনিস সঙ্গীর শরীর থেকে পিছলে গিয়ে জোরে আঘাত পাওয়া। কিছু নির্দিষ্ট যৌন ভঙ্গিতে দুর্ঘটনা। হস্তমৈথুনের সময় অতিরিক্ত জোরে বাঁকানো।  ঘুমের মধ্যে উত্থিত পেনিসে চাপ পড়া (বিরল)। দুর্ঘটনাজনিত আঘাত। 

কাদের বেশি হয়? এটি সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে দেখা যায়। বিশেষ করে যৌনভাবে সক্রিয় পুরুষদের ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের যাদের উত্থানের সময় জোরপূর্বক বাঁকানোর অভ্যাস আছে। 
লক্ষণ কী কী? পেনিস ফ্র্যাকচারের কিছু লক্ষণ এতটাই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ যে অভিজ্ঞ ডাক্তার অনেক সময় ইতিহাস শুনেই সন্দেহ করতে পারেন। সাধারণ লক্ষণ হল, “পট” বা “কট” ধরনের শব্দ শোনা। সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ব্যথা। উত্থান হঠাৎ নষ্ট হয়ে যাওয়া। দ্রুত ফুলে যাওয়া। নীলচে বা কালচে রক্তজমাট।পেনিস বেঁকে যাওয়া। স্পর্শে ব্যথা। 
কখনও কখনও প্রস্রাবের নালী (urethra) ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রস্রাবে রক্ত আসতে পারে।  প্রস্রাব করতে সমস্যা হতে পারে। 

এই সমস্যা অবহেলা করলে কী হতে পারে? অনেকে লজ্জায় ডাক্তার দেখাতে দেরি করেন। এটি বড় ভুল। চিকিৎসা না করালে
 স্থায়ী বেঁকে যাওয়া (penile curvature), ব্যথাযুক্ত উত্থান,  ইরেকটাইল ডিসফাংশন, যৌন মিলনে সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদি দাগ (fibrosis), প্রস্রাবের জটিলতা আসতে পারে। 

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়? অনেক ক্ষেত্রে রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা থেকেই রোগ নির্ণয় সম্ভব। প্রয়োজনে করা হতে পারে আল্ট্রাসাউন্ড, MRI, Urethrogram (যদি প্রস্রাবের নালীর আঘাতের সন্দেহ থাকে)। 

চিকিৎসা কী? বর্তমানে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতামত হলো, দ্রুত অপারেশনই সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা। অপারেশনের মাধ্যমে ছিঁড়ে যাওয়া অংশ সেলাই করে মেরামত করা হয়। যত দ্রুত চিকিৎসা হয়, তত ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অপারেশনের পরে কি স্বাভাবিক জীবন সম্ভব? হ্যাঁ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা হলে স্বাভাবিক উত্থান ফিরে আসে। যৌন জীবন স্বাভাবিক হতে পারে।সন্তান ধারণের ক্ষমতাও সাধারণত বজায় থাকে। সুমনের গল্প তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

মনে রাখবেন, পেনিস ফ্র্যাকচার লজ্জার বিষয় নয়, এটি একটি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি। যৌন মিলন বা অন্য কোনো কারণে উত্থিত পেনিসে হঠাৎ ব্যথা, শব্দ, ফুলে যাওয়া বা বেঁকে যাওয়া দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত ইউরোলজিস্ট বা সার্জনের পরামর্শ নিন। সময়মতো চিকিৎসা ভবিষ্যতের যৌন স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান রক্ষা করতে পারে।

আরও জীবনযাপনের খবর