অফবিট
কেস ফাইল – ৮
প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদনঃ মা ও মেয়ে দুজনের সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিণতি ভয়াবহ। প্রেমের নেশা কাটার পর দুজনকেই খুন করে পুড়িয়ে দেয় প্রেমিক। হলদিয়ায় মা ও মেয়ের সঙ্গে কি হয়েছিল? পড়ুন কেস ফাইল।
হলদিয়ার ঝিকুড়খালি নদীর ধার। শান্ত পরিবেশ। সেখানেই রয়েছে ইটভাটা। হঠাৎ করে একটা গন্ধ পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। দেখতে পান মানুষের দেহ। অনেক পরে জানা যায় মৃতদের পরিচয়। সম্পর্কে তাঁরা মা মেয়ে। তাঁদের শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। পরে ইটভাটায় এনে দেহ পোড়ানো হয়। অভিযুক্ত - সাদ্দাম হোসেন।
২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সাদ্দাম খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রমা দে ও তাঁর মেয়ে রিয়া দে ওরফে জেসিকাকে অচেতন করে শ্বাসরোধে খুন করেন। এরপর তাঁদের দেহ একটি ইটভাটায় নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে।
এই নৃশংস ঘটনাটি সামনে আসে পরদিন ভোরে, যখন হলদিয়ার ঝিকুড়খালি নদীর ধারে ইটভাটায় দেহ পোড়ানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, সাদ্দামের একসময়ে মায়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁদের বাড়িতে তার যাতায়ত ছিল। কয়েক বছর মায়ের সঙ্গে প্রেম করার পর সাদ্দামের নজর পরে মেয়ের দিকে। দুজনের সঙ্গেই চলে চুটিয়ে প্রেম। পরে মেয়েকে বিয়েও করে সে । এবার বাড়তে থাকে জটিলতা। শুরু হয় অশান্তি। সেই ‘জটিল’ সম্পর্ক থেকে বেরোতে গিয়েই খুন করে দু’জনকে। খুনে তাকে সহযোগীতা করেছিল তার দুই শাগরেদ। বাড়ির মধ্যে দুজনকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয়। পরে প্রমান লোপাটের জন্য মৃতদেহ ইটভাটায় পুড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মৃতদেহ পোড়ানোর সময় স্থানীয়রা হাজির হয়ে যায়। পুলিশ পাকড়াও করে সাদ্দাম ও তার গ্যাংকে।
আদালত অভিযুক্তদের ৩০২ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২০১ ধারায় ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করেছে। জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ডও ঘোষণা করা হয়েছে।

