কেস ফাইল
পর্ব - ১
বিগত কয়েক বছরে এরাজ্যের কয়েকটি খুনের ঘটনা আমজনতার লোম খাড়া করে দিয়েছিল। সিনেমার কায়দায় করা হয়েছিল আউট শুট আউট। আমরা এই এপিসোডে তুলে আনব সেইসব কয়েকটি খুনের ঘটনা। আজ পড়ুন বার্নপুরের রাম লক্ষণ খুনের কাহিনী।
2011 সালের 2 জুন ৷ রাজ্যে তখন সবে পালাবদল হয়েছে ৷ গ্রীষ্মের আঁচ চোখ রাঙাচ্ছে। তখনও আকাশে কালো মেঘ দেখা যায়নি। শহর আসানসোলে লু বইছে ৷ তীব্র রদের তাপে বাইরে বেরোনোই দায়। বার্নপুর রোড আর কোর্ট রোডের সংযোগে জমজমাট কোর্ট মোড় এলাকায় নিজের নির্মীয়মাণ হোটেলের একতলায় সঙ্গীসাথীদের নিয়ে বসেছিলেন ব্যবসায়ী রাম লক্ষ্মণ যাদব ৷ প্রায় দিনই থাকেন। রাস্তায় আসতে যেতে অনেকেই তাঁর সঙ্গে কথা বলে যান। সেদিনও ঠিক তেমনটাই হচ্ছিল। গরমের জন্য আসানসোল আদালত চত্বরে পসার সাজিয়ে বসা জিতেনের কাছ থেকে তাঁর তৈরি বিখ্যাত সুগার ফ্রি লস্যি আনতে পাঠিয়েছিলেন ৷ কিন্তু, সেই লস্যি আর মুখে তোলার সুযোগ পাননি রাম লক্ষ্মণ ৷ তার আগেই সুপারি কিলারদের ছোড়া এলোপাথাড়ি গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান তিনি ও তাঁর দুই সঙ্গী। সেবারও কোর্ট মোড়ের মতো জমজমাট এলাকা থেকে ভাড়াটে খুনিরা কালিপটকার মতো গুলি ছুড়তে ছুড়তে বেরিয়ে যায় বীরদর্পে !
এগারোর সেই ঘটনা চমকে দিয়েছিল আসানসোলকে ৷ এখানকার মানুষ বহু অপরাধ, মাফিয়ারাজ, গ্যাংওয়ারের সাক্ষী ৷ কিন্তু, তাঁরা এসবকে তেমন আমল দিতেন না ৷ কারণ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এই ঘটনাগুলি তখনও পর্যন্ত সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেনি ৷ কিন্তু, রাম লক্ষ্মণের খুনের ঘটনায় ভয় পেল শহর ! প্রকাশ্যে এভাবে কাউকে বুক চিতিয়ে শেষ করে দেওয়া যায় ? সেবার প্রশ্ন তুলেছিল আসানসোল ৷ সেই ভয়াবহ স্মৃতি ফিরে এল আবার ৷ রামলক্ষ্মণ যাদবের খুনের পরই অস্থির আসানসোলে পরপর ঘটতে থাকে খুনের ঘটনা ৷ আশ্চর্যের বিষয় হল, এর অধিকাংশই ঘটে হীরাপুর থানা এলাকায় ৷ বামনেতা প্রয়াত বামাপদ মুখোপাধ্যায়ের ছেলে অর্পণ মুখোপাধ্যায় প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন বার্নপুর শহরে ৷ সেই ঘটনার একবছর পর একইভাবে সেই বার্নপুরেই প্রাতঃভ্রমণের সময় খুন হলেন সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ সরকার ৷ তারপরই বার্নপুর নেহরু পার্কে পয়লা জানুয়ারির পিকনিকের ভিড়ের মাঝে খুন হন ব্যবসায়ী যিশু বিশ্বাস ৷
রাম লক্ষ্মণের খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে চার্জশিট দিয়েছিল পুলিশ ৷

