অফবিট
কেস ফাইল - ৬
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
দশমীর দুপুর। পুজো মন্ডপ থেকে ভেসে আসছে ঢাকের আওয়াজ। চলছে সিঁদুর খেলা ঠিক সেই সময়ই জিয়াগঞ্জের পাল পরিবারের রক্ত গঙ্গা বয়ে গেল। কি হয়েছিল সেই উৎসবের দুপুরে?
বিশেষ প্রতিবেদনঃ স্ত্রী, পুত্রকে নিয়ে জিয়াগঞ্জের স্কুল শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পালের সুখী পরিবরাব। দশমীর দুপুরে পাড়ার মন্ডপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। বেরোতে যাবেন ঠিক সেই সময়ই বেজে উঠল কলিং বেল। এগিয়ে গেলেন শিক্ষকের স্ত্রী বিউটি। তিনি সন্তান সম্ভবা ছিলেন। তাই একটু ধীর গতিতেই দরজার কাছে পৌঁছালেন। দরজা খুলতেই হাসোয়া দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লেন তিনি। এরপর আততায়ী ঘরের মধ্যে ঢুকে শিক্ষক এবং তাদের নাবালক সন্তানকে নির্মমভাবে ঘরে ঢুকে খুন করলো। এরপর ব্যাগে কাটারি ঢুকিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। কিছুটা দূরে পোশাক বদলে সে নিজের বাড়ি পৌঁছে যায়।
ঘটনার কথা জানাজানি হতেই রাজ্য জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়।
বন্ধুপ্রকাশের বাবার দু’টি বিয়ে। সম্পত্তি ভাগ নিয়ে বাবা এবং ছেলের মধ্যে সম্পর্ক খুব একটা ভাল ছিল না। তা নিয়ে বিভিন্ন মামলাতেও জড়িয়ে পড়েছিলেন বন্ধুপ্রকাশ। তদন্তের শুরুতে এ বিষয়টিও মাথায় রাখে পুলিশ।
এ ছাড়া বন্ধুপ্রকাশের এক বন্ধুর খোঁজ সিউড়িতে তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই খুনের ঘটনায় তার যোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করে। এ ছাড়াও, বন্ধুপ্রকাশের স্ত্রী-র নোট বুক থেকে পাওয়া তথ্য জানা যায় দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। পুলিশ খুনের নেপথ্যে যে সব কারণ থাকতে পারে সব দিকই খতিয়ে দেখছে বলে জানা যাচ্ছে। বেশ কয়েকদিন পর পুলিশ জানতে পারে এই তিনজনকে খুন করেছে তাদেরই পরিচিত এক যুবক। ওই যুবক বন্ধু প্রকাশ হয়ে গেছে টাকা পেত। দিনের পর দিন তা না দেওয়াতেই সে খুন করার সিদ্ধান্ত বেছে নেয়।

