বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
অফবিট

কেসফাইল ৫

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬
কেসফাইল ৫
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

মাথা কেটে ফুটবল খেলেছিল রামুয়া। খড়দহের অপরাধ জগতের ডন। সেই গ্যাংস্টারের পরিনতি কি হয়েছিল জানেন?

কেসফাইল ৫

বিশেষ প্রতিবেদন: গভীর রাত। খড়দহে অন্ধকার নেমে এসেছে । হঠাৎ গুলির আওয়াজ। ফ্ল্যাটে ঢুকে হাওড়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী রামুয়াকে পরপর গুলি করল দুষ্কৃতীরা। আট-দশ জনের একটি দুষ্কৃতী দল রামুয়ার ফ্ল্যাটে ঢুকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে রামুয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। অপরাধ জগতে পুরনো শত্রুতার জেরেই খুন হতে হয় রামুয়াকে ।

একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর খড়দহ থানা এলাকার অমরাবতীর অরবিন্দ সরণিতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকছিলেন রামুয়া। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী, কলেজ পড়ুয়া ছেলে এবং পাঁচ বছরের মেয়ে। চারতলার একটি ফ্ল্যাটবাড়ির উপরের তলায় থাকতেন তাঁরা।   রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ ৮-১০ জন দুষ্কৃতী নীচে থেকে রামুয়ার ফ্ল্যাটের কলিং বেল বাজায়। দরজা খুলতে রামুয়ার ছেলে নীচে নেমে আসে। রামুয়ার ছেলে পুলিশকে জানায়,সদর দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে দু’জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সদর দরজার কাছেই দাঁড় করিয়ে রাখে। বাকিরা উপরে উঠে যায়।

রামুয়ার স্ত্রী সেদিন পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ‘‘বেল বাজানো শুনে ভেবেছিলাম, ছেলে দরজা খুলে দিয়ে নীচে থেকে উপরে এসেছে। তাই দরজা খুলে দিই। সঙ্গে সঙ্গে ৫-৬ জন দুষ্কৃতী হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকে পডে়। আমার স্বামী তখন বিছানায় শুয়ে ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে বিছানাতেই চেপে ধরে। খুব কাছ থেকে পর পর দু’রাউন্ড গুলি করে। তারপর দুষ্কৃতীরা হেঁটে গলির মুখ পর্যন্ত চলে যায়।’
 গলির মুখে একটি গাড়ি রাখা ছিল। সেই গাড়িতেই চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রামুয়াকে পানিহাটি স্টেট জেনারেল নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকেই খড়দহ থানায় খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, মধ্য হাওড়া এলাকায় একাধিক খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত এই রামুয়া। কয়েক বছর আগে মুন্না সিংহ নামে এক দুষ্কৃতীকে গলা কেটে খুন করে তাঁর মাথা দিয়ে ফুটবল খেলে আরও কুখ্যাত হয়ে উঠেছিল রামুয়া। ওই ঘটনায় এলাকায় এবং পুলিশ মহলে ব্যাপক তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। তবে পুলিশের একটি সূত্রে খবর, সম্প্রতি অপরাধ জগৎ থেকে সরে আসার চেষ্টা করছিলেন রামুয়া। সেই কারণেই হাওড়া ছেড়ে খড়দহে থাকতে শুরু করেছিল। তবে প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, রামুয়া স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলেও অপরাধ তাঁর পিছু ছাড়েনি। পুরনো শত্রুতার জেরেই খুন করা হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের আরও ধারণা, খুনের পিছনে হাওড়ারই কোনও দুষ্কৃতী গোষ্ঠী রয়েছে।