সঞ্চয়
ছাগল পালনে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে বড় ভর্তুকি সরকারের
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিপুল পরিবর্তনের হাওয়া। প্রথাগত চাষবাস বা চাকরির বাঁধাধরা গণ্ডি পেরিয়ে এখন বহু যুবক-যুবতী এবং কৃষক পশুপালনকে স্থায়ী পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে ছাগল পালন (Goat Farming)। এই ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে একগুচ্ছ লোভনীয় স্কিম বা প্রকল্প নিয়ে এসেছে, যেখানে মিলছে বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান বা ভর্তুকি।
ছাগল পালনকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো জাতীয় প্রাণিসম্পদ মিশন (National Livestock Mission বা NLM)। এই স্কিমের আওতায় কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি উন্নত জাতের ছাগলের প্রজনন খামার (Breeding Farm) গড়ে তুলতে চান, তবে সরকার মোট খরচের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাপিটাল বা মূলধনী ভর্তুকি দিচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরাসরি সরকারি অনুদান পাওয়া সম্ভব
কারা আবেদন করতে পারবেন: একক কোনও যুবক-যুবতী বা কৃষক ছাড়াও স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG), যৌথ দায়বদ্ধতা গোষ্ঠী (JLG) এবং ফার্মার্স প্রডিউসার অর্গানাইজেশন (FPO) এই সুবিধার অংশীদার হতে পারেন।
যাঁরা খুব বড় মাপে নয়, বরং ছোট পরিসরে ১০টি মেয়ে ছাগল এবং ১টি পাঁঠা নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চান, তাঁদের জন্য বিশেষ ভর্তুকি স্কিম রয়েছে। এই ধরনের প্রকল্পের ইউনিট খরচ সাধারণত ৯০,০০০ টাকা ধরা হয়, যার মধ্যে সরকার প্রায় ৪৫,০০০ টাকা (৫০ শতাংশ) পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়ে থাকে বাসস্থান, খাদ্য এবং পরিকাঠামো তৈরির জন্য।
কীভাবে মিলবে এই সুবিধা?
সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে কয়েকটি নির্দিষ্ট ধাপ পার করতে হবে।
১. প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি: প্রথমে খামারের জায়গা, ছাগলের জাত (যেমন বাংলার বিখ্যাত 'ব্ল্যাক বেঙ্গল'), শেডের পরিমাপ ও আনুমানিক খরচের একটি বিস্তারিত ব্যবসায়িক খসড়া বা প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করতে হবে।
২. অনলাইন আবেদন: এনএলএম (NLM)-এর অফিসিয়াল পোর্টাল (nlm.udyamimitra.in)-এ গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র (আধার কার্ড, জমির দলিল বা লিজের কাগজ, ব্যাঙ্কের পাসবই, এবং প্রজেক্ট রিপোর্ট) সহ আবেদন করতে হবে।
৩. ব্যাঙ্ক লোনের মঞ্জুরি: আবেদন অনুমোদিত হলে বাকি ৫০ শতাংশ অর্থ ব্যাঙ্ক লোনের (যেমন SBI বা NABARD অনুমোদিত ব্যাঙ্ক) মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। লোন মঞ্জুর হলেই সরকার দুই কিস্তিতে ভর্তুকির টাকা সরাসরি আবেদনকারীর লোন অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়, যা ঋণের বোঝা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম খরচে এবং কম জায়গায় ছাগল পালন অত্যন্ত লাভজনক, কারণ এদের রোগবালাই কম এবং বাজারে মাংসের চাহিদাও আকাশছোঁয়া। সরকারের এই আর্থিক সহায়তার হাত ধরে আগামী দিনে রাজ্যের বহু বেকার যুবক স্বনির্ভরতার দিশা পাবেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

