তৃণমূলের ভণ্ড চোরেরা এখন বাঁচার জন্য বিজেপির দিকে লাইন দিচ্ছে, বহরমপুরে বিস্ফোরক অধীর
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের খারাপ ফলের পর দলবদলু ও বিদ্রোহী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বহরমপুরে কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি তৃণমূলের অন্দরে চলা কোন্দল এবং কিছু নেতার ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর দাবি, যারা এতদিন তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থেকে দুর্নীতি করেছে, তারা এখন নিজেদের বাঁচাতে বিজেপির দিকে পা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি তৃণমূলের বেশ কিছু নেতা দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এই বিষয়টিকে নিশানা করে অধীর চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের ভণ্ড নেতারা, যারা এতদিন ধরে শুধু চুরিচামারি করেছে, তারাই এখন সুযোগ বুঝে বিজেপিকে সিগনাল দিচ্ছে। তারা বলতে চাইছে— আমরা মমতাক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়ছি, আপনারা কিন্তু আমাদের দিকে একটু নজর রাখবেন।
তৃণমূলের এই নেতাদের হঠাৎ ‘বিবেক দংশন’ নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ভোটে তৃণমূল হেরে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই এই সমস্ত সুবিধাবাদী নেতাদের বোধবুদ্ধির উদয় হল! এতদিন যখন সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ হচ্ছিল, তখন এদের কোনো হেলদোল ছিল না।
সাংবাদিক সম্মেলনে অধীরবাবু তৃণমূল কংগ্রেসকে একটি ‘কোম্পানি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার তৃণমূল পরাজিত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর কোম্পানি মানুষের কাছে হেরেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই কোম্পানিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একদল নেতা গত কয়েক বছরে চুরি, চামারি আর বাটপারি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি তৈরি করাই ছিল এদের একমাত্র লক্ষ্য।
অধীর চৌধুরীর মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে তারা এখন মরিয়া। সেই কারণেই তারা রাজনৈতিক সুরক্ষার খোঁজে অন্য রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে বিজেপির দরজায় কড়া নাড়ছেন এবং অন্য জায়গায় ‘লাইন’ লাগানোর ব্যবস্থা করছেন।লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ যখন দ্রুত পাল্টাচ্ছে, ঠিক তখনই অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য অধীরবাবুর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে এবং এটিকে তাঁর ব্যক্তিগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করা হয়েছে। জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, অধীরবাবু নিজেদের দলের কথা একটু মন দিয়ে ভাবুন। উনি কংগ্রেসকে নিয়ে যত বেশি চিন্তা করেন তার থেকে বেশি তৃণমূলকে নিয়ে চিন্তা দেখছি। এই জন্য কংগ্রেসের এই হাল।

