নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে শেষপর্যন্ত অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। কেড়ে নেওয়া হলো গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের বিতর্কিত নেতা তথা রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান। বৃহস্পতিবার রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কের অমর একুশে উদ্যানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে অনন্ত মহারাজের হাতে এই সর্বোচ্চ সম্মান তুলে দিয়েছিলেন। তবে নেতাজিকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক ‘অবমাননাকর’ বক্তব্যের জেরে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরেই বর্তমান শুভেন্দু সরকারের পক্ষ থেকে এই সম্মান প্রত্যাহারের কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরগামী প্রভাব ফেলতে পারে। বাম-ডান নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ অনন্ত মহারাজের ওই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। নেতাজির মতো দেশের এক মহান জাতীয় নায়ককে অপমানের পর তাঁর হাতে বাংলার সর্বোচ্চ সম্মান থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে দাবি ওঠে সমস্ত মহল থেকে। শেষপর্যন্ত সেই তীব্র জনরোষ এবং জনআবেগকে মান্যতা দিয়েই তড়িঘড়ি এই সম্মান প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন।
রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অনন্ত মহারাজের এই ধরনের মন্তব্য বাংলার দীর্ঘদিনের গৌরবময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের আবেগে গভীর আঘাত করেছে। তাই এই সম্মান কেড়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। এর আগে উত্তরবঙ্গের এই প্রভাবশালী রাজবংশী নেতাকে বঙ্গবিভূষণ দিয়ে ভোটব্যাঙ্কের রাজনৈতিক সমীকরণ সাধার চেষ্টা করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। তবে বর্তমান সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের পর উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নেতাজির সম্মানহানির বিষয়ে রাজ্য সরকার ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, বিজেপি সাংসদের ক্ষেত্রেও কি সে কথা প্রযোজ্য হবে? শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, আইন সকলের জন্যই সমান। তার পরের দিনই অনন্তের বঙ্গবিভূষণ কেড়ে নেওয়া হল।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, অনন্ত মহারাজ যদি মনে করে থাকেন বাংলার মানুষের মন পাবেন নেতাজিকে অপমান করে, সেটা খুব দুঃখজনক। আলাদা করে আমার কিছু বলার নেই। নেতাজির অপমান বাঙালির অপমান। আমরা সেটা বরদাস্ত করব না।