বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
রাজ্য

১০ হাজার আয় হলেই অন্নপূর্ণা নয়

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬
১০ হাজার আয় হলেই অন্নপূর্ণা নয়
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিদিঃ রাজ্যে নারীদের আর্থিক সহায়তার অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র নিয়মে বড়সড় রদবদল ঘটাল নবান্ন। এবার থেকে কোনও উপভোক্তার মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি হলে, তিনি আর এই যোজনার আর্থিক সুবিধা পাবেন না। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই নতুন নিয়মের কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে উপভোক্তাদের তালিকায় বড়সড় কাটছাঁট হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী আয়ের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ ও শহর এলাকার জন্য দুটি ভিন্ন নিয়মের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, গ্রামীণ এলাকার উপভোক্তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে নিয়মে বেশ কিছু ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফলে চলতি আগস্ট মাস থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকার মহিলারা যে বাড়তি সুবিধা বা অগ্রাধিকার পেতে চলেছেন, তা পরিষ্কার। তবে উল্টো ছবি দেখা যাবে শহরাঞ্চলে। পুরসভা বা কর্পোরেশন এলাকার মহিলাদের জন্য স্ক্রুটিনি বা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু কঠিন নিয়ম চাপানো হচ্ছে।
 মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সমাজ কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী মালতী রাভা রায় আগামী ১৭ আগস্ট জানিয়ে দেবেন, মোট কতজন টাকা পাবেন। ওইদিন থেকেই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। কিন্তু সব উপভোক্তার কাছে টাকা পৌঁছাতে দু’-তিনদিন সময় লাগবে। এরপর থেকে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অন্নপূর্ণার টাকা পৌঁছে যাবে।’ তিনি জানিয়েছেন, উপভোক্তার সংখ্যা অনেকটাই বাড়ছে। সেই ক্ষেত্রে এই অর্থবর্ষের শেষ আট মাসের জন্য বরাদ্দ বেড়ে হতে পারে ৪৮ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। আগে ধরা ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
সরকারি চাকরিজীবী এবং আয়করদাতারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না। ক্ষমতায় এসেই তা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করলেই আর অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন না। এছাড়া তাঁর পরিবারের কেউ যদি আয়কর দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রেও এই প্রকল্প কার্যকর হবে না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘বাড়িতে তিনটি পাকা ঘর থাকলে সুবিধা না মেলার যে নিয়ম রয়েছে, তা গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী মহিলাদের জন্য কার্যকর হবে না।’ সেক্ষেত্রে একটি বিষয় পরিষ্কার, শহর এলাকায় বসতবাড়িতে তিনটি পাকা ঘর থাকলে সেই আবেদনকারী মহিলা কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না। একইসঙ্গে বাড়তি শর্ত চাপানো হয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর এবং আসানসোল, এই সাতটি বড় পুরসভার বাসিন্দাদের জন্য।
নবান্ন সূত্রে খবর, অন্নপূর্ণা যোজনার অপব্যবহার রুখতে এবং প্রকৃত দুঃস্থ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের হাতে এই সরকারি সাহায্য পৌঁছে দিতেই মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিপূর্বে অনেকেই আয়ের সঠিক উৎস গোপন করে এই সুবিধা নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠছিল। চলতি আগস্ট মাস থেকেই এই নতুন স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রামীণ ও পুর এলাকায় উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আয়ের শংসাপত্র নতুন করে খতিয়ে দেখেই পরবর্তী কিস্তির টাকা সরাসরি তাঁদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।