রাজ্য
নম্বর জালিয়াতির অভিযোগে বদলি বর্ধমানের সুপার
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এমবিবিএস পরীক্ষায় ফেল করা পড়ুয়াদের নম্বর বাড়াতে বিভাগীয় প্রধানের ওপর চাপ সৃষ্টির বিস্ফোরক অভিযোগ। বিতর্কের জেরে অবশেষে পদ খোয়াতে হল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ তথা সুপার তাপস ঘোষকে। রবিবার দুপুরে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করে তাঁকে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের প্রফেসর পদে বদলি করা হয়েছে। এই বদলির জেরে তিনি আর কোনও প্রশাসনিক দায়িত্বে রইলেন না।
মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এমবিবিএস পরীক্ষায় ফেল করা ছয়জন পড়ুয়াকে পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য অ্যানাটমি বিভাগের প্রধানের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করেছিলেন সুপার তাপস ঘোষ। অভিযোগ, সুপারের চাপের মুখে পড়ে একপ্রকার বাধ্য হয়েই ট্যাবুলেশন শিটে কলম দিয়ে নম্বর কেটে বাড়িয়ে দেন ওই বিভাগীয় প্রধান। চিকিৎসকদের মতো একটি মহান পেশার পরীক্ষায় এমন নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় কলেজ চত্বরে।
এই বেনিয়মের কথা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ বিভাগীয় প্রধান সরাসরি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। সূত্রের খবর, অভিযোগ পাওয়ার পর স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মৌখিকভাবে তাপস ঘোষকে কলেজে আসতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, খোদ মন্ত্রীর সেই নির্দেশকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দাপটের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওই আধিকারিক। শুধু তাই নয়, এই বিপুল বিতর্কের মাঝেই দিনকয়েক আগে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে স্নাতকোত্তর পরীক্ষার 'সেন্টার ইনচার্জ' পদে নিযুক্ত করে। এই ঘটনায় চিকিৎসক মহলে ক্ষোভের আগুন আরও দানা বাঁধে।
চারদিকের প্রবল চাপের মুখে পড়ে অবশেষে রবিবার তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য ভবন। প্রশাসনিক পদ থেকে এক ধাক্কায় সরিয়ে অধ্যাপক পদে উত্তরবঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হল বিতর্কিত এই সুপারকে। এই বদলি প্রসঙ্গে মুখ খুলে তাপস ঘোষ বলেন, "সরকারি নির্দেশিকা হাতে পেয়েছি। এ বার যা হওয়ার সেটাই হবে।" স্বাস্থ্য মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কড়া বার্তা দিল রাজ্য।

