রাজ্য
ল্যান্ড জেহাদ রুখতে কড়া আইন: ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সীমান্তবর্তী জেলাগুলির জনবিন্যাস রক্ষা এবং অনুপ্রবেশের থাবা থেকে ভূমিপুত্রদের জমি বাঁচাতে এবার বড়সড় আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার প্রশাসনিক জনসভা থেকে ল্যান্ড জেহাদ ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক এক বছর আগে লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ল্যান্ড জেহাদ নিয়ে যে জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা শুনিয়েছিলেন, এবার সেই পথেই রাজ্যে নতুন আইন আনার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূল জমানার অবসানের পর রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এদিন তাঁর সরকারের একাধিক বড় সিদ্ধান্তের খতিয়ান তুলে ধরেন। বাঁকুড়ার সভা থেকে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রাজ্যের শাসনভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই জাতীয় নিরাপত্তা ও সনাতন সংস্কৃতির সুরক্ষায় একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ করেছে তাঁর মন্ত্রিসভা। অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে বিএসএফ-এর (BSF) কাঁটাতারের বেড়া ও পরিকাঠামো তৈরির জন্য জমি জট কেটে রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তর করেছে বলেও তিনি জানান।
এদিনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিজ্ঞার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন। শুভেন্দুর কথায়, “আমরা সীমান্তে বিএসএফকে জমি দিয়ে দিয়েছি। ওবিসি (OBC)-র অবৈধ তালিকা বাতিল করে দিয়েছি। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের ভাতা।” এর পাশাপাশি গোমাতার সম্মান রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “মহরম উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে, কিন্তু রাস্তায় তলোয়ার বের করতে দেওয়া হয়নি।”
জনবিন্যাসের পরিবর্তন রুখতে ল্যান্ড জেহাদ বিরোধী আইনের পাশাপাশি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) কার্যকর করার বিষয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, “কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্যে ইউসিসি (UCC) আসতে চলেছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারীর এই একগুচ্ছ ঘোষণা রাজ্যের প্রশাসনিক ও সামাজিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিতে চলেছে।

