মমতার ‘তিরস্কার’, শুভেন্দুর ‘পুরস্কার’! স্বাধীনতা দিবসে দময়ন্তী-সহ ৬ আইপিএস-কে সর্বোচ্চ সম্মান
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পরেই আমূল বদলে গেল প্রশাসনিক সমীকরণ। এবার কর্মক্ষেত্রে অসামান্য ও বরেণ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দময়ন্তী সেন-সহ রাজ্যের ৬ জন আইপিএস (IPS) অফিসারকে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করতে চলেছে নতুন রাজ্য সরকার। ১৫ আগস্ট, দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের মহতী অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘মুখ্যমন্ত্রী মেডেল সম্মান’ (Chief Minister's Medal) তুলে দেবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে যে দময়ন্তী সেন দীর্ঘকাল কোণঠাসা ও ‘চক্ষুশূল’ হয়ে পড়েছিলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই তাঁর এই ‘আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস’-এর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মেডেলের জন্য নির্বাচিত এই ৬ জন শীর্ষ পুলিশ কর্তা হলেন— দময়ন্তী সেন, অজয় কুমার, নীরজ কুমার সিং, কে জয়রামন, প্রণব কুমার এবং কুণাল আগরওয়াল। এঁদের মধ্যে ১৯৯৬ ব্যাচের দুঁদে আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনের নাম ঘিরেই কৌতূহল ও চর্চা তুঙ্গে। ২০১২ সালের বহুচর্চিত পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সাজানো ঘটনা’র তত্ত্বকে খণ্ডন করে নিরপেক্ষভাবে আসল অপরাধীদের ধরেছিলেন তিনি। ফলস্বরূপ, তৎকালীন সরকারের রোষানলে পড়ে কলকাতার প্রথম মহিলা জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) পদ থেকে তাঁকে ব্যারাকপুরের এক লঘু গুরুত্বের পদে বদলি বা ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি বছরের মে মাসে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পরেই দময়ন্তী সেনকে সসম্মানে ফিরিয়ে এনে মহিলা সুরক্ষায় বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়।কেবল দময়ন্তী সেনই নন, এই তালিকায় থাকা কে জয়রামনের মতো অন্য আইপিএস অফিসাররাও অতীতে বিভিন্ন কারণে পূর্বতন জমানায় কোণঠাসা অবস্থায় ছিলেন। স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং এই আধিকারিকদের পিঠ চাপড়ে সাহসিকতা ও কর্তব্যপরায়ণতার জন্য মেডেল পরিয়ে দেবেন।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন বিজেপি সরকার রাজ্যের পুলিশ ও আমলাতন্ত্রকে এক কড়া ও ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইল, যেখানে সততা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন রাজনৈতিক রঙের ঊর্ধ্বে উঠে করা হবে। এই ঐতিহাসিক পদক প্রদানের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অন্দরে এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।

