রাজ্য
পঞ্চায়েতে কর বাড়ছে না, স্পষ্ট বার্তা দিলীপের
প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া: গ্রামীণ এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর কোনো নতুন করের বোঝা চাপানো হচ্ছে না। পঞ্চায়েত স্তরে কর বাড়ানো হতে পারে বলে একাংশ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। শুক্রবার কৃষ্ণনগরের রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকের পর এই কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এ দিন নদিয়া জেলার পঞ্চায়েত দফতরের কর্মী ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনো রকম কর বাড়বে না। তবে আমরা পঞ্চায়েতগুলোকে একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বা টার্গেট দিয়েছি। খালি কেন্দ্র টাকা পাঠাবে আর তোমরা সেই টাকা খরচ করবে বা লুটবে— ওটা আর চলবে না। এখন থেকে প্রত্যেকটি পঞ্চায়েতকে নিজস্ব তহবিলের জন্য নিজেদের আয় বাড়াতে হবে।” এই আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে ইতিপূর্বেই তিনি প্রধানদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কনফারেন্স করেছেন বলে জানান। পঞ্চায়েতগুলোকে স্বনির্ভর করতে একগুচ্ছ নতুন পথও বাতলে দিয়েছেন মন্ত্রী।
দিলীপ ঘোষের পরামর্শ, পঞ্চায়েত এলাকার সরকারি পুকুরগুলো অবিলম্বে দখলমুক্ত করে লিজ বা ভাড়া দিতে হবে। গ্রামীণ বাজার বা হাটে আধুনিক ছাউনি তৈরি করে দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পরিকাঠামো ব্যবহারের কর নিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “বিগত ১০ বছর ধরে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা বহু জায়গা দখল করে রেখেছে। তারা এক পয়সাও রাজস্ব দেয় না। অথচ ওইসব জায়গা থেকে মাসে লাখ টাকা আয় হতে পারে। যে সমস্ত বড় পঞ্চায়েত ভবন আছে, সেগুলোর ওপরের তলা বিয়েবাড়ি বা অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দিয়ে নিজস্ব তহবিল বাড়ানো হোক।” মন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর স্পষ্ট যে, কর না বাড়ালেও পঞ্চায়েতের বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করে আয় বাড়াতে এবার কোমর বাঁধছে প্রশাসন।

