রাজ্য
'বাংলার বাড়ি’ আর নয়, শুভেন্দু সরকারের নতুন প্রকল্পের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’
প্রকাশিত: ৬ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর এবার তৃণমূল আমলের আরও একটি বড় প্রকল্পের নাম বদলে দিল নতুন রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’র নাম বদলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নাম রেখেছিল ‘বাংলার বাড়ি’। এবার শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সেই নাম পরিবর্তন করে রাখল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’।
বৃহস্পতিবার নবান্নে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই নাম বদলের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন রাজ্যের নতুন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে গ্রামীণ মানুষের জন্য বড় ঘোষণা করে তিনি জানান, এই প্রকল্পের উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আজ থেকেই সরাসরি সবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়ে গেছে। রাজ্যের প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষ ৬০ হাজার টাকা করে এই কিস্তিতে পাবেন।
তবে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের তৈরি তালিকা নিয়ে বড় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। তাঁর দাবি, তৃণমূলের তৈরি করা ৩০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকার মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ নামই ‘অযোগ্য’। ফলে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো ও অযোগ্য নাম এই তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর যাঁরা নিয়ম মেনে বাড়ির প্রাথমিক কাজ শেষ করেছেন, আজ তাঁদের অ্যাকাউন্টেই দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা ঢুকে যাচ্ছে।
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এবার থেকে যোগ্যতার নিয়মে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের বাড়ির দেওয়াল ইটের, কিন্তু মাথার উপর পাকা ছাদ নেই (খড় বা টিনের চাল রয়েছে), তাঁদের আর ‘পাকা বাড়ি’র অজুহাতে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না। প্রকৃত গরিবরা সকলেই এই সুবিধা পাবেন।
প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরেও যাঁরা এখনও কাজ শুরু করতে পারেননি, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন করে সমীক্ষা চালাবে প্রশাসন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রের প্রকল্পের নাম বদলে রাজ্য নিজস্ব ব্র্যান্ডিং করছে— এই অভিযোগে দীর্ঘদিন সরব ছিল বিজেপি। এবার রাজ্যে ক্ষমতায় এসে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সেই ‘বাংলা’ শব্দ সরিয়ে রাজ্যের সরকারি পরিচয় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটিকেই আবাস যোজনার সঙ্গে জুড়ে দিল। একই সঙ্গে সাড়ে ১২ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে পূর্বতন সরকারের আমলের ‘দুর্নীতি’র তত্ত্বকেই ফের উস্কে দিল নতুন শাসকদল।

