চিনকে মোক্ষম ধাক্কা দিতে তৈরি পুরুলিয়া
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও পুরুলিয়া: এ বার দেশের খনিজ মানচিত্রে বড় চমক দিতে চলেছে এ রাজ্যের পুরুলিয়া। জেলাটির মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মহামূল্যবান খনিজ তুলতে এ বার বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। পুরুলিয়ার ঝালদা-২ ব্লকের তাহাদ্দিরি গ্রামের ‘বেকু রেয়ার মেটাল ব্লক’ থেকে বাণিজ্যিকভাবে খনিজ উত্তোলনের জন্য নিলামের নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্রীয় খনিজ মন্ত্রক। এই খনি থেকে মূলত ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস’ বা বিরল মৃত্তিকা মৌল পাওয়া যাবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতকে চিনের বিরুদ্ধে এক বিরাট ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভূ-বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, পুরুলিয়ার ঝালদা এলাকার এই খনিজ ভাণ্ডার দেশের প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক বিরাট বিপ্লব এনে দিতে পারে। আজকের দিনে আমরা যে স্মার্টফোন, কম্পিউটার চিপ বা বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার করি, তার ব্যাটারি এবং পার্টস তৈরি করতে এই বিরল ধাতুগুলি অপরিহার্য। শুধু তা-ই নয়, দেশের সুরক্ষায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, রাডার ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও এই খনিজ উপাদানগুলি ছাড়া কাজ চালানো অসম্ভব।
এতদিন পর্যন্ত বিশ্বের এই ধরণের বিরল খনিজের সিংহভাগই ছিল চিনের নিয়ন্ত্রণে। ফলে ভারত-সহ গোটা বিশ্বকেই এই প্রযুক্তির কাঁচামালের জন্য বেজিংয়ের ওপর নির্ভর করে থাকতে হতো। এই একচেটিয়া বাজারের সুযোগ নিয়ে এর আগে বহুবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন দেশের উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল ব্যবহার করেছে বেজিং। এবার ভারতে, বিশেষ করে পুরুলিয়াতে এই খনিজ উত্তোলন শুরু হলে চিনের সেই একচেটিয়া বাজারে বড় ধাক্কা লাগবে। ভারতকে আর এই খনিজের জন্য চিনের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না।বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুলিয়ায় এই খনি চালু হলে স্থানীয় স্তরে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। অনুন্নত জেলা হিসেবে পরিচিত পুরুলিয়ার অর্থনৈতিক চেহারাটাই বদলে যেতে পারে এই খনির হাত ধরে। তবে এই খনিজ মাটির তলা থেকে বের করার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। তাই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য এবং পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রেখে কীভাবে খনির কাজ চালানো হবে, সেটাই এখন বড় পরীক্ষা প্রশাসনের কাছে।

