রাজ্য
আর জি করে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ, ধৃত নির্মল
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। তড়িঘড়ি নির্যাতিতার দেহ সৎকার করে প্রমাণ লোপাটের গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ ওড়িশার পুরী লাগোয়া একটি হোটেল থেকে তাঁকে পাকড়াও করেন রাজ্য পুলিশের তদন্তকারীরা। ঘটনার পর নতুন করে এফআইআর দায়ের হতেই ওড়িশায় গিয়ে অন্য ফোন ও সিমকার্ড ব্যবহার করে আত্মগোপন করেছিলেন এই প্রভাবশালী নেতা। তবে শেষরক্ষা হলো না। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেই তাঁকে বাগে আনে পুলিশ।
আর জি করের ঘটনার শুরু থেকেই পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, আর জি কর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর অতি সক্রিয় হয়ে দ্রুততার সঙ্গে নির্যাতিতার দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। সেই সময় মৃতার পরিবারের মতামত বা আবেগের তোয়াক্কা না করেই জোরপূর্বক শ্মশানে দেহ পুড়িয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই রহস্যজনক তৎপরতার কারণে মামলার মূল তদন্তকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই (CBI) এর আগে নির্মল ঘোষকে একাধিকবার তলব করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত সোমবার খড়দহ থানায় নির্মল ঘোষ-সহ তিন জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে একটি নতুন এফআইআর (FIR) করেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর সেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ কোমর বেঁধে তদন্তে নামে এবং ওড়িশা থেকে প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে কলকাতায় ফিরিয়ে এনে শুক্রবার ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হতে পারে। এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারির পর আর জি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা বড় কোনো প্রভাবশালী চক্র বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার আসল রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষ।

