চীনের কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ৯০ শ্রমিকের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চীনে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনা। দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯০ জন। আরো শতাধিক শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েছেন। তাঁদের অনেকে জখম। এমনকী অনেকে বেঁচে নেই বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।
চীনের প্রধান কয়লা খনি অঞ্চল শানসি প্রদেশ। এটি আয়তনে গ্রিসের থেকেও বড়। এখানে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষের বসবাস। গত বছর শুধুমাত্র শানসির খনিগুলি থেকে ১৩ লক্ষ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। যা চীনের মোট উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই শ্রমিকরা খনির গভীরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই খনির একটি অংশে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে খনির ভেতরের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভূগর্ভস্থ কক্ষে ক্ষতিকারক গ্যাস জমে যাওয়ার কারণেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণের পর পুরো খনি এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। র্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা খনির ভেতর থেকে একের পর এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করতে শুরু করে। আহত অবস্থায় বেশ কিছু শ্রমিককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।
তবে খনির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকায় এবং সুড়ঙ্গ ধসে পড়ায় উদ্ধার কাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনাকবলিত খনির বাইরে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা ভিড় করেছেন। তাদের কান্না ও আহাজারিতে ওই এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার পর চীন সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। খনি পরিচালনায় কোনো ধরনের নিয়মের অবহেলা বা নিরাপত্তা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য কয়লা খনিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
চীনে কয়লা খনিতে দুর্ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও নানা সময়ে খনি বিস্ফোরণে বহু শ্রমিকের প্রাণহানি হয়েছে। দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেক সময়ই খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করে আসছে।

