বিদেশ
পরমাণু বোমার পথে কি আরও এক ধাপ এগোল ইরান?
প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদন: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত মরু-রাজনীতিতে ফের বাজল যুদ্ধের দামামা। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা সত্যি করে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের পথে কি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইরান? সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং তেহরানের অনমনীয় মনোভাব অন্তত সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র নজরদারি এড়িয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রাকে রেকর্ড স্তরে নিয়ে যাওয়ায় এখন ঘুম উড়েছে আমেরিকা ও ইসরায়েলের।
সূত্রের খবর, ইরানের কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত তিনটি পরমাণু বোমা তৈরি করা সম্ভব। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইউরেনিয়ামকে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৯০ শতাংশ বা ‘অস্ত্র তৈরির উপযোগী’ স্তরে নিয়ে যাওয়া তেহরানের পক্ষে এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এর আগে গত মার্চ মাসে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের কয়েকটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রশাসন সুর আরও চড়িয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের ওপর পুনরায় হামলা হলে তারা তাদের ঘোষিত ‘পরমাণু নীতি’ বদলে ফেলবে এবং সরাসরি অস্ত্র তৈরিতে হাত দেবে।
এক সময় ইরান দাবি করত, তাদের এই কর্মসূচি স্রেফ শান্তিপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসার জন্য। কিন্তু ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই সেই রাখঢাক উধাও। উল্টে গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুক্তি বাতিলের কথা ঘোষণা করেছে তেহরান। পশ্চিমী গোয়েন্দাদের দাবি, ইরানের হাতে এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা অনায়াসেই পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। অর্থাৎ, বোমা তৈরি হয়ে গেলে তা ইসরায়েল বা ইউরোপের যে কোনও প্রান্তে আঘাত হানতে পারবে।
এদিকে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু শক্তিসম্পন্ন দেশ হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তারা একাই ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। সামান্য একটি স্ফুলিঙ্গ থেকেই বেজে উঠতে পারে পরমাণু যুদ্ধের রণডঙ্কা। সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

