বিদেশ
বালোচ বিদ্রোহীদের দাপটে বিধ্বস্ত পাকিস্তান: নিহত ২৪ জওয়ান
প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বালোচ বিদ্রোহীদের লাগাতার হামলায় কার্যত তটস্থ পাকিস্তান। বালুচিস্তানে ফের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের নিশানায় পড়ল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। রবিবার প্রদেশের রাজধানী কোয়েট্টায় একটি সেনা বোঝাই ট্রেনে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ২৪ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। এই রক্তক্ষয়ী হামলার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA) এর দায় স্বীকার করেছে।
রবিবারের এই নারকীয় ঘটনা গত বছরের ‘জাফর এক্সপ্রেস’ ট্রেন হাইজ্যাকের রক্তক্ষয়ী স্মৃতিকে নতুন করে ফিরিয়ে এনেছে। সূত্রের খবর, আসন্ন ইদের ছুটিকে কেন্দ্র করে কোয়েট্টার সেনা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পেশোয়ারগামী একটি বিশেষ ট্রেনে চেপে সপরিবারে বাড়ি ফিরছিলেন বহু পাক সেনা কর্মী। ট্রেনটি কোয়েট্টার চমক ফাটক স্টেশনে পৌঁছানোর ঠিক আগেই আচমকা এই আক্রমণ চালানো হয়। একটি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি দ্রুত গতিতে এসে সরাসরি চলন্ত ট্রেনটিকে ধাক্কা মারে। চালক কিছু বুঝে ওঠার আগেই তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ট্রেনের ইঞ্জিন এবং তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। পাশাপাশি দুটি বগি উল্টে গিয়ে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, রেললাইনের আশেপাশে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া লোহার পাত, পুড়ে যাওয়া গাড়ি এবং ধ্বংসস্তূপের কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে নিকটবর্তী বেশ কিছু আবাসিক ভবনও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভয়াবহ এই ঘটনার পরই পাক সেনা ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে রক্তাক্ত ও দগ্ধ জওয়ানদের উদ্ধার করে স্থানীয় কোয়েট্টা সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির মোকাবিলায় কোয়েট্টার সমস্ত সরকারি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকদের দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তবে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বালুচিস্তানে কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিএলএ যে সশস্ত্র আন্দোলন চালাচ্ছে, এই হামলা তারই একটি উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছে বালুচিস্তানের মানুষ। পাক সেনার অত্যাচারের প্রতিবাদে সরব হয়েছে সশস্ত্র সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি। সব মিলিয়ে, এই উৎসবের মরসুমে সেনার ট্রেনে এমন বড়সড় আত্মঘাতী হামলা পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটিকেই আবার সামনে এনে দিল।

