বোধিবৃক্ষ - কেন তৃপ্ত হই না?
সংকলক: সন্দীপ সিনহা
গৌতম বুদ্ধ বলছেন, তৃষ্ণা থেকে শোক উৎপন্ন হয়, তৃষ্ণা থেকে ভয় উৎপন্ন হয়। যিনি তৃষ্ণাকে ত্যাগ করেছেন, তার শোক হয় না, ভয়ও হয়না। তৃষ্ণার অর্থ হল—আমি যেমন আছি, তাতে আমার তৃপ্তি নেই, অন্য কিছু চাই, অর্থাৎ সব সময় আরো কিছু চাওয়াই তৃষ্ণা। এর জন্য কেউ ক্রোধে লড়ছে, কেউ লোভে লড়ছে, কেউ কামে, কেউ আবার ঈর্ষায়। এসবই তৃষ্ণারই বিস্তার, যার কোন অন্ত নেই। এসব অন্ধকারের মত। শুধু নিজেকে কষ্ট দেওয়া, নিজের শক্তি ক্ষয় করা। যা আছে, যা হচ্ছে তা যেন না হয়, যা আমি চাই তাই হোক—এইরূপ তৃষ্ণা থেকে হিংসা বাড়ে। মানুষ যত চায় এটা হোক সেটা হোক ইত্যাদি তার ফলেই হিংসা বাড়ে। আর যেখানে হিংসা বাড়ে সেখানে শোক বাড়ে, ভয় বাড়ে। বৌদ্ধমতে—সত্য বলা, ক্রোধ না করা এবং সামান্য হলেও দান করা এই তিনটি উপায়ে মানুষ দেবতাদের কাছে যায়। আমাদের বিড়ম্বনা এই যে, মিথ্যা বলার জন্য কারো থেকে শিখতে হয় না। ক্রোধ করার জন্যও কারো থেকেই শিখতে হয় না আবার দান না করার জন্যও কারো কাছে শিখতে হয় না। অর্থাৎ অকুশল কর্ম বা ক্ষতিকর কর্ম করার জন্য কারও কাছ থেকে শিখতে হয় না। সময় এলে নিজে থেকেই মানুষ এগুলি জেনে ফেলে। অথচ সত্য বলা ক্রোধ না করা ইত্যাদি কুশল কর্ম করার মার্গ দর্শনের জন্য উপদেশ দেওয়া হয়। মঠ মিশন আশ্রম প্রভৃতি চালাতে হয়। মোটা মোটা বই লিখতে হয়। তারপরেও বহুমানুষ সৎকর্মের দিকে অগ্রসর হয় না। বৌদ্ধ ধর্মের সৌন্দর্য হলো দুঃখের নিবৃত্তি এবং নির্বার্ণের প্রাপ্তিতে। মানুষ এইটি বুঝলে জীবন সরল ও সুগম হতো। সাংসারিক লোকেদের মধ্যে মূর্খকে সন্তুষ্ট রাখা মুশকিল। স্বার্থ থাকলে সেই মুহূর্তে বন্ধু হয়ে যায়, আবার স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে এক পলকে শত্রু হয়ে যায়। আবার দেখা যায় যখন তার খুশি হওয়ার কথা অনেক ক্ষেত্রে তখনও সে অসন্তুষ্ট হয়। এইরকম মূর্খরা কোথায় সন্তুষ্ট আর কোথায় অসন্তুষ্ট হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এদের সদুপদেশ দিলেও রেগে যায়। নিজের থেকে বিদ্যা ধন পদ ইত্যাদিতে শ্রেষ্ঠ লোকেদের প্রতি এরা হিংসা করে, নিজের সমান লোকেদের প্রতি বিবাদ করে এবং নিজের চেয়ে নিচু লোকেদের প্রতি অহংকার করে। এরকম মূর্খের সঙ্গে যুক্ত হলে বা মিত্রতা করলে কখনো সুখ পাওয়া যায় না। তাই সাধারণ লোকের স্বভাব জেনে, সৎ লোকের তাদের সংস্পর্শে যাওয়া উচিত নয়।

