ছোট মানুষের দম্ভ
মানুষের মনের তিনটি উপাদান আছে। পশুত্ব, মনুষ্যত্ব ও দিব্য। পশুর প্রবণতা খাবার ছিনিয়ে খাওয়া। মানুষের বৈশিষ্ট্য খাবার ভাগ করে খাওয়া। একে মনুষ্যত্ব বা মানবতা বলা হয়। আর দিব্য প্রবণতা হল আগে অন্যকে দিয়ে পরে নিজে খাওয়া। সংসারে মায়েদের মধ্যে এটি দেখা যায়। এই তিনটি উপাদানই মানুষের মধ্যে আছে। কোন্ মানুষের মধ্যে কোন্ প্রবণতা বেশি, সেটি দিয়েই তার চরিত্র গঠিত হয়। পশু প্রবণতা গায়ের জোরে শক্তির প্রকাশ করে। তার বৈশিষ্ট্যই পেশিশক্তি, স্থূল কাজ। মানুষের বৈশিষ্ট্য মানসিক শক্তি। আর দেবতার বৈশিষ্ট্য হলো, চরিত্রশক্তি, লোভ ও ভয়ের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শক্তি। পশুর আনন্দ স্থূল ব্যাপারে। আহার নিদ্রা মৈথুন এর মধ্যেই তার আনন্দ। মানুষের আনন্দ সূক্ষ্ম ব্যাপারে— বিনোদন,বৌদ্ধিক ও আবেগজড়িত বিষয়ে। আর দিব্য চরিত্রের আত্মিক আনন্দ অর্থাৎ সবার মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে দেওয়া। পশু সৌন্দর্য বোঝেনা। মানুষ জোর দেয় বাইরের সৌন্দর্যে। আর দিব্যতা জোর দেয় অন্তরের সৌন্দর্যে। পশুর প্রেম হল দুই শরীরের মিলন। মানবিক প্রেম দুই হৃদয়ের মিলন। দিব্য প্রেম দুই আত্মার মিলন। সকল মানুষের মধ্যেই এই তিনটি কমবেশি থাকে। এইজন্য কারো মূল্যায়ন করার সময় দেখতে হয় তার চিন্তায় ও ব্যবহারে কোনটি বেশি প্রকাশিত। ওই ব্যক্তির মানসিক প্রবণতা কি ধরনের । ছোট মানুষদের অহংকার বেশি , ছোট মানুষের দম্ভ বেশি। সে কখনও নত হতে জানেনা। বড় মানুষের অহংকার কম। আত্মবিশ্বাসী হলে অহংকার কমে যায়। আনন্দময় ব্যক্তি কাউকে ছোট করেন না। জাগতিক ক্ষেত্রে অহংকার দেখানো বা অন্যকে নিচু চোখে দেখলে নিজেই সমাজে অপ্রিয় হয়ে পড়েন। আধ্যাত্বিক ক্ষেত্রে অহংকার এক বিরাট বাধা। এইজন্যই ব্যবহারে অন্যকে সম্মান দেখানো দরকার। সম্মান দিয়ে ব্যবহার করা বা কথা বলা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির লক্ষণ। পশুত্ব থেকে মনুষ্যত্ব, মনুষ্যত্ব থেকে দেবত্বে যাওয়া এটাই প্রকৃত বিকাশ। কারণ এটাই হলো চেতনার বিকাশ। শারীরিক বিকাশ বা সম্পদের বিকাশের চেয়ে মনের বিকাশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসে তারাই বেশি সম্মান পেয়েছেন যাদের মধ্যে দেবত্বের পরিচয় বেশি দেখা গেছে। আধ্যাত্মিক বিকাশের এটিই তাৎপর্য।

