বোধি বৃক্ষ - না থাকার ভারে মরছি
ঈশ্বর যে আছেন এবং সর্বত্রই আছেন এই কথাটা যে আমরা জানি না তা নয়। কিন্তু আমরা সর্বদা এমনভাবেই চলি যেন তিনি কোনখানেই নেই! এর প্রধান কারণ তাঁর প্রতি আমাদের প্রেম জন্মায়নি, সুতরাং তিনি থাকলেই বা কী, আর না থাকলেই বা কী ? তাঁর চেয়ে ঘরের অতি তুচ্ছ বস্তুও আমাদের কাছে বেশী করে আছে। প্রেম নেই বলেই তাঁর দিকে আমাদের সমস্ত চোখ চায় না, আমাদের সমস্ত কান যায় না, আমাদের সমস্ত মন খোলে না। এইজন্যই যিনি সর্বত্রই আছেন এবং অন্য সবকিছুর তুলনায় একমাত্র তিনিই সর্বদা আছেন অথচ তাঁকেই পাই না। তাই এমন একটা অভাব জীবনে থেকে যায় যা আর কিছুতেই কোনভাবেই পূরণ হয় না। ঈশ্বর থেকেও থাকেন না — এতবড় প্রকাণ্ড না থাকা আমাদের পক্ষে আর কী আছে ! এই না থাকার ভারে আমরা প্রতিনিয়ত মরছি। এই না থাকার মানে আর কিছুই নয়, প্রেমের অভাব। এই প্রেম না- থাকার শুষ্কতায় জগতের সমস্ত লাবণ্য মারা গেল, জীবনের সমস্ত সৌন্দর্য নষ্ট হল। যিনি আছেন তিনি নেই এতবড় ক্ষতি কী দিয়ে পূরণ হবে! সব জানি, সব বুঝি কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। দিনে রাত্রে এইজন্যই আমাদের এত দুঃখ। সবকিছুই যেন ব্যর্থ। জ্ঞানের প্রকাশে আমাদের সংশয়ের সমস্ত অন্ধকার দূর হয় না। আমরা জেনেও জানি না কখন? যখন আমাদের মধ্যে প্রেমের প্রকাশ হয় না। এমনকি সংসারের মধ্যেও আমরা হয়তো সকলকে প্রেমের আলোতে দেখি না। তাই প্রেম যাদের মধ্যে প্রসারিত হতে পেরেছে তাদেরই আমরা আত্মার আত্মীয় বলে মনে করি, অন্যদের নয়। আমাদের গৃহের মধ্যে যিনি গৃহরথকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, সেই মহারথীকে বাদ দিয়ে আমিই গৃহের কর্তা হয়ে যাই। " আমি" - র দ্বারা ঠাসা রয়েছে এই সংসার। তাই শুধু তিনিই নেই!
—(সংকলক: সন্দীপ সিনহা)।

