বিদ্যুত গাড়ি, জ্বালানি সাশ্রয়
নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নিজেও এবার হাঁটলেন সেই পথে। পশ্চিম এশিয়ার সংকটে দেশের আর্থিক চাপ সামলাতে নিজের কনভয়ের ৫০ শতাংশ গাড়ি কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি কনভয়ে বৈদ্যুতিন গাড়ির সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশে বিদ্যুত চালিত গাড়ির আন্দোলনে দ্রুত গতি এসেছে। পেট্রোল‑ডিজেলের দাম বাড়ায় বিদ্যুত গাড়ি এখন বড় সাশ্র্যের পথ হিসেবে নজরে এসেছে। সরকার গাড়ি কেনায় ছাড়, চার্জিং স্টেশন বাড়ানো এবং ঘরোয়া উৎপাদন বাড়াতে নানাভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে ফলে বাজারে বিদ্যুত গাড়ির প্রবেশ বাড়ছে।
গত কয়েক বছরে নীতিগত সহায়তার ফলে বিনিয়োগ বেড়েছে এবং দেশের বড় কোম্পানিগুলো ইলেকট্রিক মডেলে কাজ শুরু করেছে। সরকার গ্রাহকদের লোভনীয় ছাড় দিয়ে গাড়ি কেনা সহজ করতে চাইছে এবং গ্রাম-শহরে চার্জিং সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রকল্প চালু করেছে। এতে নন‑ইনভেস্টররাও ধীরে ধীরে এই গাড়ি নেওয়ার পথ পাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি আগামী দশকে যানবাহনের বড় অংশ ইলেকট্রিক হয়ে ওঠে, তাতে তেলের ওপর শক্ত নির্ভরতা কমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ও হ্রাস পাবে। নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে বিদ্যুৎ নিলে চলমান জ্বালানি খরচ আরও কমবে। পাশাপশি ব্যাটারি ও অংশভাগের উৎপাদন বাড়ায় কর্মসংস্থানও বাড়বে।
পরিবেশের দিক থেকেও লাভ আছে; বিদ্যুত গাড়ি গ্যাস ও কণার নির্গমন কমায়, ফলে শহরের বাতাস পরিষ্কার থাকবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি সড়কের শব্দ দূষণও কমানোর আশা করা হচ্ছে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নেই। যেমন - চার্জিং স্টেশন এখনই পর্যাপ্ত নয়, ব্যাটারির দাম এখনও বেশি, এবং পুরনো জ্বালানি চালিত গাড়ি একেবারে বদলাতে সময় লাগবে। সরকারের লক্ষ্য এক লক্ষের বেশি চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন করা এবং ব্যাটারি উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা প্রদান।
এই পদক্ষেপ কেবল জ্বালানি সাশ্রয় নয়; এটি দেশের শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণ তাকিয়ে আছে—কত দ্রুত এসব সুবিধা তাদের দরজায় পৌঁছবে এবং বেশি মানুষ বিদ্যুত গাড়ি গ্রহণ করবে কি না।

