বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
দেশ

‘খুচরো নেই, নেমে যান!’ কন্ডাক্টরের রোষের মুখে কর্ণাটকের পরিবহণমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬
‘খুচরো নেই, নেমে যান!’ কন্ডাক্টরের রোষের মুখে কর্ণাটকের পরিবহণমন্ত্রী
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাসে উঠে কন্ডাক্টরের মুখে ‘খুচরো নেই’ শুনে অভ্যস্ত আমজনতা। কিন্তু সেই একই ঘটনার মুখোমুখি যদি হতে হয় খোদ রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রীকে? শুনতে অবাক লাগলেও, ঠিক এই অভিজ্ঞতাই হল কর্ণাটকের পরিবহণমন্ত্রী বি সুরেশ (ভৈরাতি সুরেশ)-এর হাতে-নাতে। মুখে মাস্ক পরে, সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে বেঙ্গালুরুর সরকারি বাসে (BMTC) উঠেছিলেন তিনি। আর সেখানেই মন্ত্রীর দিকে কন্ডাক্টরের ছুড়ে দেওয়া প্রশ্ন— ‘খুচরো নেই, ভাড়া দিতে না পারলে বাস থেকে নেমে যান।’ পরিচয় গোপন রাখা মন্ত্রীও মুখ বুজে নেমে গেলেন পরের স্টপেজে।

শনিবার রাতে বেঙ্গালুরুর গণপরিবহণের আসল চেহারা এবং যাত্রী সুরক্ষার হালহকিকত খতিয়ে দেখতে একাই রাস্তায় নামেন পরিবহণমন্ত্রী বি সুরেশ। রাত ৭টা ১০ মিনিট থেকে ৯টা ১০ মিনিট— টানা দু’ঘণ্টা ধরে তিনি হেব্বিল, আরটি নগর, জেনগর, মান্যতা টেক পার্ক-সহ শহরের বিভিন্ন রুটে ১০টিরও বেশি সরকারি বাসে যাতায়াত করেন। সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন প্রাত্যহিক দুর্ভোগের গভীরতা।
হব্বল থেকে নাগশেট্টিহাল্লিগামী একটি বাসে উঠে যখন মন্ত্রী কন্ডাক্টরের কাছে দু’টি টিকিট চান এবং একটি ১০০ টাকার নোট এগিয়ে দেন, তখনই বাধে বিপত্তি। কন্ডাক্টর সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর কাছে কোনও খুচরো নেই। মন্ত্রী নিজের কাছেও খুচরো টাকা না থাকার কথা জানালে কন্ডাক্টর মেজাজ হারান। নিজের ক্যাশ ব্যাগ দেখিয়ে অত্যন্ত রূঢ়ভাবে বলেন, “আমার কাছেও খুচরো দেওয়ার মতো পয়সা নেই। সঠিক ভাড়া দিতে না পারলে পরের মোড়েই বাস থেকে নেমে যান।” মাস্ক পরে থাকায় কন্ডাক্টর বিন্দুমাত্র টের পাননি যে তিনি খোদ মন্ত্রীকে ধমক দিচ্ছেন। সুরেশও নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে সুবোধ বালকের মতো বাস থেকে নেমে যান।
মন্ত্রীর এই ‘রিয়েলিটি চেক’ অবশ্য শুধু খুচরো সমস্যাতেই আটকে থাকেনি। বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ যাত্রীদের নিত্যদিনের আরও বেশ কিছু ক্ষোভের কারণ তিনি নিজেই প্রত্যক্ষ করেন। তিনি দেখেন, বেশ কিছু বাস চালক যাত্রীদের সিগন্যাল উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট স্টপেজে গাড়ি না থামিয়েই চলে যাচ্ছে। যেমন ‘ফন ওয়ার্ল্ড’ স্টপেজে যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও বাস না থামানোর অপরাধে তিনি পিছনের বাস থেকে তা দেখে ফেলেন এবং পরে ওই বাসের চালক মুস্তাক ও কন্ডাক্টর দয়ানন্দকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন।
বাসের পাশাপাশি অটোচালকদের দৌরাত্ম্য পরীক্ষা করতে মন্ত্রী একটি অটোতেও সওয়ার হন। সেখানে মিটারে ভাড়া উঠেছিল ৩০ টাকা, কিন্তু চালক অবলীলায় তাঁর কাছে ৩৬ টাকা দাবি করেন। মিটার রি-ক্যালিব্রেট বা সংশোধন করা হয়নি বলে অজুহাত দেওয়ায় মন্ত্রী তাঁকে ৪০ টাকা মিটিয়ে দিয়ে নেমে যান।
এই সারপ্রাইজ ভিজিটের পর পরিবহণ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন বি সুরেশ। সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা, খুচরো না রাখা এবং নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস না থামানোর মতো অভিযোগের ভিত্তিতে কড়া বিভাগীয় তদন্ত ও কন্ডাক্টরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুর গণপরিবহণকে নিয়মের বেড়াজালে বাঁধতে এবং চালক-কন্ডাক্টরদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আগামী দিনেও এই ধরনের আকস্মিক ছদ্মবেশী অভিযান জারি থাকবে।

আরও দেশ খবর