মোদির সভার আগেই ‘বোমা’ হুমকি, খলিস্তানি ইমেলে ছড়াল তুমুল আতঙ্ক
নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঞ্জাব ও হরিয়ানা সফরের ঠিক আগেই উড়ে এল ভয়াবহ নাশকতার হুমকি। ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেব’— খলিস্তানিদের পাঠানো এমনই এক ইমেল বার্তাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই ইমেলটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা টিম। ইতিমধ্যেই মোদির নিরাপত্তা বলয় আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর এই হুমকিবার্তাটি ঠিক কোথায় পাঠানো হয়েছিল, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে জানায়নি পুলিশ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রের খবর, ‘খলিস্তান ন্যাশনাল আর্মি’ (KNA) নামের একটি কট্টরপন্থী সংগঠন এই ইমেলের মাধ্যমে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছে। আগামী শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি হাই-প্রোফাইল জনসভা করার কথা রয়েছে। খলিস্তানিদের হুমকি ইমেলে স্পষ্ট ভাষায় দাবি করা হয়েছে, জিন্দের সেই সভামঞ্চকেই মূল লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বোমা হামলা চালানো হবে। শুধু প্রধানমন্ত্রীর জনসভাই নয়, ওই একই দিনে চণ্ডীগড়, মোহালি এবং জলন্ধরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও বড়সড় রক্তগঙ্গার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন স্কুল, গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন এবং একাধিক সরকারি ও জনবহুল স্থান। এই সমস্ত জায়গাতেই ‘ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস’ বা আইইডি (IED) বিস্ফোরণ ঘটানো হবে বলে চরম হুমকি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠনটি।
উদ্বেগের বিষয় হল, স্রেফ হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি ওই জঙ্গি গোষ্ঠী, ইমেলে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট সময়ও উল্লেখ করে দিয়েছে তারা। খলিস্তানিদের বার্তা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার ঠিক দুপুর ১টা ১১ মিনিট নাগাদ চণ্ডীগড় ও জলন্ধরের স্কুল এবং রেলস্টেশনগুলিতে একের পর এক আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। এর ঠিক কিছু সময় পর, দুপুর ৩টে ১১ মিনিটে মোহালির মেয়রের অফিস উড়িয়ে দেওয়া হবে টাইম বম্বের সাহায্যে।
এমন একটি সময়নির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত হুমকিবার্তা আসার পর কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। চণ্ডীগড় ও পাঞ্জাবের সমস্ত স্পর্শকাতর এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ এবং বম্ব স্কোয়াড। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা সীমান্ত জুড়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (SPG) স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করে জিন্দের সভাস্থলের নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাস করেছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, মোদির সফরের আগে উত্তর ভারতে বড়সড় সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরি করতেই এই ছক কষেছে খলিস্তানিরা। সব মিলিয়ে, মোদির সফরের আগে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতা।

