প্রশ্ন ফাঁস, নিট বাতিল
নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশজুড়ে কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর জল ঢেলে দিয়ে অবশেষে বাতিল করা হলো সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট (NEET-UG) ২০২৬। মঙ্গলবার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা (NTA)। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া এই পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো অভিযোগ ওঠায় এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সবুজ সংকেত মেলার পরেই এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চলতি বছরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই রাজস্থান, বিহার-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল। বিশেষত রাজস্থানের সিকারে একটি ‘গেজ পেপার’ বা সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ার খবর সামনে আসে, যার সঙ্গে মূল পরীক্ষার প্রশ্নের ব্যাপক মিল পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা যায়, প্রায় ৭২০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে ৬০০ নম্বরেরও বেশি প্রশ্ন পরীক্ষার অন্তত ৪২ ঘণ্টা আগেই নির্দিষ্ট কিছু চক্রের হাতে পৌঁছে গিয়েছিল। এর জেরে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। প্রথমে এনটিএ জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করলেও, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির লাগাতার প্রতিবাদের পর অবশেষে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় কেন্দ্র। এনটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে এবং জালিয়াতি রুখতে পুরো বিষয়টি সিবিআই (CBI) তদন্তের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।এই বাতিলের ফলে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দিনক্ষণ শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। তবে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, নতুন করে কোনো আবেদনপত্র বা ফি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আগের রেজিস্ট্রেশন তথ্যই বৈধ থাকবে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে। বহু অভিভাবক ও পরীক্ষার্থী এনটিএ-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষত ২০২৪ সালের নিট কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই ধরনের বিপর্যয়ে জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বড়সড় ধাক্কা খেল। বর্তমানে সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে এই প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যে থাকা বড়সড় পাণ্ডাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

