দেশ
মার্কিন ভিসায় কোপ, বিপাকে ভারতীয় পড়ুয়ারা
প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন মুলুকে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা ভারতীয় পড়ুয়াদের সামনে এবার তৈরি হলো মস্ত বড় প্রাচীর। অতি সম্প্রতি ওয়াশিংটনের ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’ (CIS)-এর একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২৫ সালের মে থেকে আগস্ট মাসের মূল অ্যাডমিশন মরশুমে ভারতীয়দের জন্য মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা (F-1) অনুমোদনের হার রেকর্ড ৬২ শতাংশ কমে গিয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা মহলে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে।
আমেরিকার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মে-আগস্ট মাসের মধ্যে যেখানে ৫৮,৬৯৪ জন ভারতীয় শিক্ষার্থীকে ‘এফ-১’ স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালের ঠিক একই সময়ে সেই সংখ্যাটা নজিরবিহীনভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২২,১৪৯টিতে। অথচ আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিদেশি পড়ুয়াদের তালিকায় এই মুহূর্তে শীর্ষে রয়েছে ভারত। একইভাবে চিনা পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও ভিসা মঞ্জুরের হার কমেছে, তবে তা ভারতের তুলনায় অনেক কম (প্রায়৩৪ শতাংশ)।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ভিসা স্ক্রিনিংয়ের কড়াকড়ির জেরেই এই ধাক্কা। বর্তমানে ভিসা ইন্টারভিউয়ের স্লট মেলা যেমন কঠিন হয়েছে, তেমনই সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পুঙ্খানুপুঙ্খ স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। এছাড়াও বহু যোগ্য ও স্কলারশিপ পাওয়া পড়ুয়ার আবেদন ‘ভারতের সঙ্গে যথেষ্ট পারিবারিক বা পেশাগত টান নেই’ (Section 214b)— এই তকমা দিয়ে খারিজ করা হচ্ছে [১.২.৪]।
এখানেই শেষ নয়, পড়াশোনা শেষে আমেরিকায় থেকে কাজ করার সুযোগ বা ‘অপশনাল প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং’ (OPT) প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ বন্ধ করার সুপারিশও করা হয়েছে এই নয়া রিপোর্টে। পাশাপাশি পড়ার সুযোগ পেলেও থাকার গ্রেস পিরিয়ড ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। আমেরিকার এই অনমনীয় মনোভাবের কারণে অনেক ভারতীয় পড়ুয়াই এখন বিকল্প হিসেবে জার্মানি, আয়ারল্যান্ড কিংবা নেদারল্যান্ডসের মতো দেশের কথা ভাবছেন।

