সদ্যোজাতকে একই টিকা দু’বার! নার্সের গাফিলতির অভিযোগে তুলকালাম বান্দোয়ানে
নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার মান এবং কর্মীদের একাংশের চরম গাফিলতি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। এক দিনের ব্যবধানে এক সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে একই তিনটি টিকা দু’বার দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠল পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের চিরুডি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক নার্সের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুটির পরিবার তথা গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসার এই চরম গাফিলতির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বান্দোয়ানের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের (বিএমওএইচ) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুটির বাবা।
আক্রান্ত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বান্দোয়ানের শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত গরাঁই গত ১৫ অগস্ট তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চিরুডি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করান। ওই দিনই তাঁর স্ত্রী একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সুশান্তবাবুর অভিযোগ, নিয়মানুযায়ী জন্মের পরের দিন অর্থাৎ ১৬ অগস্ট তাঁর শিশুকন্যাকে প্রয়োজনীয় তিনটি প্রাথমিক টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরের দিন, ১৭ অগস্ট মাতৃসুরক্ষা কার্ড পরীক্ষা না করেই জরুরি বিভাগে কর্মরত এক নার্স ফের ওই একই তিনটি টিকা শিশুটিকে দিয়ে দেন।
শিশুর বাবার দাবি, “কর্তব্যরত নার্স কার্ড না দেখেই তড়িঘড়ি এসে বাচ্চাকে টিকা দিতে শুরু করেন। আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো আলাদা কোনও ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরে মাতৃসুরক্ষা কার্ড মিলিয়ে বুঝতে পারি, ওগুলি আগের দিনের দেওয়াই একই টিকা ছিল।” সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন চূড়ান্ত খামতি কীভাবে হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। দু’বার একই ডোজ পড়ায় শিশুর কোনও শারীরিক ক্ষতি হতে পারে কি না, তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারের।
এই বিষয়ে বান্দোয়ানের বিএমওএইচ সুদীপ গোড়াই জানিয়েছেন, “অভিযোগ জমা পড়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তবে চিকিৎসকদের একাংশের মতে, এই ঘটনা কাঙ্ক্ষিত না হলেও, এ ক্ষেত্রে শিশুটির বড় কোনও শারীরিক সমস্যা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা কম। তা সত্ত্বেও, এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে ক্ষুব্ধ পরিবার।

