বিনোদন
আইনি বিচ্ছেদের পথে জুঁই ও স্বরূপ বিশ্বাস
প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ টেলিপাড়া থেকে কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দ—বেশ কিছুদিন ধরেই একটি গুঞ্জন ডানা মেলছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জনে সিলমোহর দিলেন তৃণমূল কাউন্সিলার জুঁই বিশ্বাস। তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে, স্বামী স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। দক্ষিণ কলকাতার অত্যন্ত প্রভাবশালী ‘বিশ্বাস পরিবারে’র এই ভাঙনের খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্যের রাজনৈতিক এবং বিনোদন মহল।
কলকাতা পুরসভার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে কাউন্সিলার জুঁই বিশ্বাস একই সঙ্গে ১০ নম্বর বরোর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। অন্যদিকে, তাঁর স্বামী স্বরূপ বিশ্বাস হলেন টলিউডের কলাকুশলীদের সংগঠন ফেডারেশনের (Federation of Cine Technicians & Workers of Eastern India) প্রভাবশালী সভাপতি এবং দাপুটে তৃণমূল নেতা। শুধু তাই নয়, স্বরূপ বিশ্বাস রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসের ভাই। ফলে দীর্ঘকাল ধরেই এই দম্পতি রাজনৈতিক এবং গ্ল্যামার দুনিয়ায় এক পরিচিত নাম।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুঁই বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া কোনো পদক্ষেপ নয়। ২০১৯ সাল থেকেই তাঁদের মধ্যে এক প্রকার পারস্পরিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল এবং তাঁরা আলাদা থাকছিলেন। কোভিড পরিস্থিতির পর থেকেই তাঁরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ঠিকানায় বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকার পর, এবার আইনি উপায়ে এই সম্পর্কে পাকাপাকি ইতি টানতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। জুঁইয়ের কথা অনুযায়ী, বিগত ৩ মাস আগে থেকেই এই আইনি লড়াই বা মিউচুয়াল সেপারেশনের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে।
নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে খুব বেশি বিশদে বলতে চাননি জুঁই। তিনি জানান, তাঁদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বড় মেয়েটি এখন কৈশোরে পা রাখছে। এই পরিস্থিতিতে সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। জুঁই স্পষ্ট করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত জীবন এবং চারপাশেই রোজ এমন ঘটনা ঘটে। যত দ্রুত সম্ভব আইনি প্রক্রিয়া মিটে গেলেই ভালো।
আপাতত আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে খুব তাড়াতাড়িই জুঁই ও স্বরূপের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে টলিপাড়ায় প্রভাবশালীদের যোগসূত্র এবং রাজনৈতিক মহলের নানা ওঠাপড়ার মাঝেই এই হাইপ্রোফাইল বিচ্ছেদের খবরটি যে বাংলার জনমানসে এক বড়সড় শোরগোল ফেলে দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

