বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বিনোদন

রজনীকান্ত-কমল হাসানের নায়িকা থেকে ফুটপাতে ঠাঁই, এই অভিনেত্রীর শেষ জীবন চমকে দেবে

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬
রজনীকান্ত-কমল হাসানের নায়িকা থেকে ফুটপাতে ঠাঁই, এই অভিনেত্রীর শেষ জীবন চমকে দেবে
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্ল্যামার দুনিয়ার চাকচিক্য যে কত বড় মরীচিকা হতে পারে, তার সবচেয়ে বড় এবং মর্মান্তিক উদাহরণ বোধহয় অভিনেত্রী নিশা নূর। আশির দশকে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার পর্দা কাঁপানো এই সাহসী অভিনেত্রী জীবনের শেষ দিনগুলোতে যেভাবে হারিয়ে গিয়েছিলেন, তা শুনলে আজও শিউরে উঠতে হয়। রজনীকান্ত, কমল হাসান, মামুটি কিংবা মোহনলালের মতো মহাতারকাদের পাশে যাঁর নাম জ্বলজ্বল করত, তাঁর জীবনের শেষ পরিণতি হয়েছিল ফুটপাতে, চরম একাকীত্ব আর যন্ত্রণার মধ্যে।

তামিলনাড়ুতে জন্ম নেওয়া নিশা নূর ভাগ্যের জোরেই রূপোলি পর্দায় পা রেখেছিলেন। ১৯৮০ সালে তামিল ছবি 'মঙ্গলা নায়াগি' দিয়ে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয়। অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে তিনি তামিল, মালয়ালম, তেলেগু এবং কন্নড়— দক্ষিণ ভারতের এই চার ইন্ডাস্ট্রিতেই নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করে ফেলেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিক পর্যন্ত ‘টিক টিক টিক’, ‘শ্রী রাঘবেন্দ্রর’, ‘কল্যাণ আগাথিগাল’, ‘আইয়ার দ্য গ্রেট’ কিংবা ‘দেবসুরাম’-এর মতো একের পর এক সুপারহিট ও চর্চিত ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। পর্দায় তাঁর সাহসী অভিনয় সেই সময় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।
কিন্তু এই খ্যাতির আড়ালেই লুকিয়ে ছিল অন্ধকার। কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকার সময়ই এক প্রবল ঝড় আসে নিশার জীবনে। অভিযোগ, এক প্রযোজক তাঁকে প্রতারণা করে জোর করে দেহব্যবসায় নামিয়ে দেয়। এই ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে তাঁর সাজানো ‘গোল্ডেন কেরিয়ার’ ধ্বংস করে দেয়। ইন্ডাস্ট্রির বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতরা রাতারাতি তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এরপর আর্থিক সর্বনাশ এবং তীব্র মানসিক অবসাদ তাঁকে গ্রাস করে।
ধীরে ধীরে সিনেমা জগৎ থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যান নিশা। ২০০৭ সালে চেন্নাইয়ের নাগাপট্টিনমের রাস্তায় তাঁকে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। গায়ে মাছি ভনভন করছিল, চেনার উপায় ছিল না যে ইনিই একসময়ের সেই গ্ল্যামারাস নায়িকা। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করলে জানা যায়, তিনি মারণ রোগ এইডস (AIDS)-এ আক্রান্ত। ২০০৭ সালের ২৩ এপ্রিল, মাত্র ৪৪ বছর বয়সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই নিভে যায় এই প্রতিভার জীবন প্রদীপ। রুপোলি পর্দার আলো যাঁকে একসময় ঘিরে থাকত, শেষযাত্রায় তাঁর পাশে থাকার মতো একটা চেনা মানুষও ছিল না।

আরও বিনোদন খবর