পৈতৃক ভিটেয় নিলামের নোটিস, রাজপাল যাদবের ঘাড়ে ১৬ কোটির নতুন দেনা
নিজস্ব প্রতিনিধি: ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলার অভিশাপ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবের। সেই আইনি গেরো কাটার আগেই, ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’র মতো এক নতুন আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লেন বলিউডের এই জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা। কোটি কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ শোধ না করার অপরাধে এবার অভিনেতার পৈতৃক ভিটেয় সরাসরি নিলামের নোটিস ঝোলাল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া অর্থ না মেটাতে পারলে উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের আদি বাড়ি ও জমি খুইয়ে সর্বহারা হতে পারেন রাজপাল।বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মুম্বই শাখার আধিকারিকরা শাহজাহানপুরের কুন্দ্রা গ্রামে অভিনেতার পৈতৃক বাড়িতে এই ক্রোকের নোটিস সেঁটে দেন। ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, সুদে-আসলে রাজপাল যাদবের কাছে ব্যাঙ্কের বর্তমান বকেয়া পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ৬১ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা! আগামী ৩৪ দিনের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ টাকা মেটাতে না পারলে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অভিনেতার দুটি সম্পত্তি অনলাইনে ই-নিলাম (e-auction) করে দেওয়া হবে। নিলামে তুলতে চলা এই দুটি সম্পত্তির ন্যূনতম মূল্য বা রিজার্ভ প্রাইস রাখা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা।
কী কারণে এই বিপুল পরিমাণ ঋণ?ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গেছে, এই ঋণের গল্পটি বেশ পুরনো। ২০০৫ সালে রাজপাল তাঁর বাবা-মায়ের নামে ‘নবরং গোদাবরী এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড’ নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা খোলেন। এরপর ২০১২ সালে নিজের পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আতা পতা লাপাতা’ (Ata Pata Lapata) তৈরি করার জন্য সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্স শাখা থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ছবিটির বক্স অফিসে চরম ব্যর্থতার মুখ দেখায় সেই টাকা আর সময়মতো শোধ করতে পারেননি অভিনেতা। বছরের পর বছর ধরে সেই ঋণের ওপর সুদ ও জরিমানা জমতে জমতে আজ তা সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই ঋণের জামিন হিসেবে রাজপাল তাঁর নিজের জমি-বাড়ি ছাড়াও স্ত্রী রাধা যাদব এবং মা গোদাবরী যাদবের সম্পত্তিও বন্ধক রেখেছিলেন।
এর আগে গত জুলাই মাসের ১০ তারিখে দিল্লির উচ্চ আদালত ৯ কোটির একটি পুরনো চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদবকে তিন মাসের কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এই নতুন নিলামের নোটিস অভিনেতার কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করাল। যদিও রাজপালের বড় ভাই শ্রীপাল যাদব দাবি করেছেন, "বিষয়টি নিয়ে ব্যাঙ্কের সঙ্গে ঋণ শোধের কথাবার্তা চলছে। নিলাম হওয়ার আগেই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।" তবে শেষ পর্যন্ত রাজপাল তাঁর এই পৈতৃক সম্পত্তি বাঁচাতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।

