বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

ভুয়ো ও মৃতদের নাম ছেঁটে অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা, ২৭ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা ফাঁসের দাবি শুভেন্দুর

প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
ভুয়ো ও মৃতদের নাম ছেঁটে অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা, ২৭ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা ফাঁসের দাবি শুভেন্দুর
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্প নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সর্বশেষ কিস্তির টাকা পাঠানোর সময় উপভোক্তার সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সেই তালিকায় ব্যাপক কাটছাঁট করা হয়েছে। কীভাবে এবং কেন এই বিপুল সংখ্যক নাম তালিকা থেকে বাদ গেল, তার বিস্ফোরক খতিয়ান তুলে ধরলেন রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা তথা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে বিবরণ দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকার পরিবর্তনের পরেই এই প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা বিস্তারিত সার্ভে করে দেখলাম, ভারতীয় নাগরিক নন বা এ রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম নেই, এমন প্রায় ২৭ লক্ষ মহিলার নাম পূর্বতন সরকারের ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।”
তালিকায় থাকা দুর্নীতির রূপরেখা স্পষ্ট করে তিনি আরও জানান, এই ২৭ লক্ষ নামের মধ্যে একটি বড় অংশ আসলে মৃত ব্যক্তি। অনেকে আবার বছরের পর বছর এই রাজ্যে বসবাসই করেন না, অথচ তাঁদের নামে নিয়মিত সরকারি টাকা উঠছিল। শুধু তাই নয়, সমীক্ষায় এমন বহু মারাত্মক জালিয়াতিও সামনে এসেছে যেখানে দেখা গিয়েছে, একই মহিলার নাম ভোটার তালিকায় তিনটি আলাদা জায়গায় রয়েছে এবং সেই সূত্র ধরে তিনটি পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে সরকারি ভাতার টাকা ঢুকছিল।
এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক কেলেঙ্কারি ও জালিয়াতি রুখতেই নতুন সরকার কঠোর পদক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর এই বিবৃতির পর মুখ্যমন্ত্রীও স্পষ্ট ভাষায় প্রশাসনের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কড়া স্ক্রুটিনি করে এই সমস্ত ভুয়ো ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে কেটে বাদ দিয়েছি। কারণ, সরকারের টাকা ভারতীয় নাগরিক ছাড়া অন্য কেউ পেতে পারে না। সাধারণ মানুষের করের টাকা এভাবে নয়ছয় হতে দেওয়া যাবে না।”
নবান্ন সূত্রে খবর, আধার কার্ডের বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ এবং ভোটার তালিকার সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযুক্তিকরণের মাধ্যমেই এই ২৭ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক ভুয়ো নাম বাদ যাওয়ার ফলেই সরকারি কোষাগারের শত শত কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। আর সেই কারণেই বাজেটে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করেই প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের মাসিক ভাতার পরিমাণ ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৩০০০ টাকা করা সম্ভব হচ্ছে। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে যেমন স্বচ্ছতা ফিরবে, তেমনই প্রকৃত দুঃস্থ মহিলারা তাঁদের ন্যায্য অধিকার পাবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।