বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
সর্বশেষ খবর

যৌনসঙ্গম নিয়ে এই ভুল ধারণাগুলি আপনার নেই তো?

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬
যৌনসঙ্গম নিয়ে এই ভুল ধারণাগুলি আপনার নেই তো?
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সহবাস বা যৌনসঙ্গম নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক রকম ভুল ধারণা, কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। এই ব্যাপারগুলো সংবেদনশীল মনে করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করতেও অনেকে সংকোচ বোধ করেন। দেখা যায়, সহবাস নিয়ে ভুল ধারণাগুলোর ওপর ভিত্তি করে অনেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর ফলে সৃষ্টি হয় নানান শারীরিক, মানসিক ও পারিবারিক জটিলতা।
১. সন্তান ধারণের জন্য প্রতিদিন সহবাস করতে হবে - অনেকের ধারণা বাচ্চা চাইলে প্রতিদিন যৌন মিলন জরুরী। তা না হলে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়।
বিজ্ঞান যা বলে: একটা গবেষণায় দেখা গেছে — প্রতিদিন সহবাস করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে – ৩৭ শতাংশ।  একদিন পর পর সহবাস করলেও সফলতার সম্ভাবনা কাছাকাছি থাকে – ৩৩ শতাংশ।  সপ্তাহে একবার সহবাস করলে সম্ভাবনা নেমে আসে মাত্র ১৫ শতাংশে। অর্থাৎ ঘন ঘন যৌন মিলনে সফলতার সম্ভাবনা বাড়ে, এবং প্রতিদিন বা ১ দিন পর পর চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ সম্ভাবনা থাকে। আর যদি Fertile Window বা গর্ভধারণের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সময় খুঁজে বের করে তখন ঘন ঘন চেষ্টা করা যায়, তাহলে আরও ভালো।
তবে সবার পক্ষে এমন রুটিন মেনে বাচ্চার জন্য চেষ্টা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। অনেকের জন্য সেটা উপযুক্তও হবে না। নির্ভরযোগ্য তথ্যগুলো জেনে পরিস্থিতি অনুযায়ী যেটা ভালো হয়, সেভাবেই সিদ্ধান্ত নিবেন।
২. নির্দিষ্ট কিছু অবস্থানে সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে? বাচ্চা নেওয়ার জন্য সহবাসের নিয়ম কী? — এই প্রশ্নের একটি বহুল প্রচলিত উত্তর হলো মিশনারি অবস্থান। এই অবস্থানে সহবাসের সময় পুরুষ ওপরে ও নারী নিচে থাকে। এই অবস্থানে সহবাস করলে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে দাবি করা হয়। 
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল প্রচারিত কিছু ভিডিওতে বিশেষ কিছু অবস্থানে সহবাসের মাধ্যমে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় সহবাস করলে, কিংবা সহবাসের পর মেয়েরা দৌড়ঝাঁপ করলে গর্ভধারণ সম্ভব হবে না — এমন ধারনাও প্রচলিত।
বিজ্ঞান যা বলে: এগুলোর কোনটাই সঠিক নয়। নির্দিষ্ট একটা বা দুইটা অবস্থানে সহবাস করলে সন্তানধারণের সম্ভাবনা বেশি — এই দাবিগুলো মোটেও বিজ্ঞান সমর্থিত নয়।

সন্তান ধারণের জন্য শুক্রাণু যোনিপথ বা মাসিকের রাস্তায় পৌঁছানো প্রয়োজন। এমনকি বীর্য যোনিপথের কাছাকাছি পৌঁছলেও গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে। তাই যেসব অবস্থানে সহবাস করলে মাসিকের রাস্তায় বীর্যপাত হয়, কনডম বা অন্য কোনো জন্মনিরোধক ব্যবহার না করা হলে, সেসব অবস্থানের সবগুলোতে গর্ভধারণে সম্ভাবনা থাকে। কোন একটা অবস্থান অন্যটির চেয়ে বেশি ভালো বা কার্যকর — বিষয়টি এমন নয়।
যে অবস্থানেই সহবাস হোক না কেন, পুরুষের বীর্যপাতের পরে নারীর যোনিপথ থেকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শুক্রাণু পৌঁছে যায় জরায়ুমুখে। তাই নির্দিষ্ট একটা বা দুটো অবস্থানে সম্ভাবনা বেশি বা সেগুলো ছাড়া সন্তান হবে না, এমন কথা মোটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়।
৩. যোনিপথ দিয়ে বীর্য বের হয়ে আসলে গর্ভবতী হওয়া যাবে না? অনেকেই দুশ্চিন্তা করেন যে বীর্যপাতের পর মাসিকের রাস্তা দিয়ে বীর্য বের হয়ে আসার অর্থ হলো সব শুক্রাণু সব বের হয়ে যাওয়া এবং নারীর গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়া। এই বেরিয়ে আসা বা ফ্লোব্যাক ঠেকানোর জন্য ইন্টারনেটে নানা পন্থা অবলম্বনের পরামর্শ পাওয়া যায়, যেমন— নারীকে আধা ঘণ্টা চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে হবে, কোমরের নিচে বালিশ দিয়ে উঁচু করে রাখতে হবে, শুয়ে পা দুটো উঁচু করে রাখতে হবে। 
এছাড়া অনেকে প্রশ্ন করে থাকে, সহবাসের পর কতক্ষণ শুয়ে থাকতে হয়। এসম্পর্কে ধারণা হলো সহবাস করার পর কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলে কিংবা পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে রাখলে শুক্রাণু জরায়ুতে পৌঁছতে পারবে। বিজ্ঞান যা বলে: মাসিকের রাস্তা দিয়ে বীর্য বেরিয়ে আসাকে বলা হয় ফ্লোব্যাক। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি ঘটনা। একটা গবেষণায় দেখা গেছে যে ৯৪ শতাংশ সহবাসের পরেই এই ফ্লোব্যাক দেখা যায়। সেটা বিছানায় শোওয়া অবস্থায় হতে পারে, উঠে হাঁটতে গেলে হতে পারে, আবার প্রস্রাব করার সময়েও হতে পারে। এটা দুশ্চিন্তার কোন বিষয় নয়।


এজন্য বিশেষ কোনো কাজ করার বা বিশেষ অবস্থানে শুয়ে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। এমনকি শুক্রাণু জরায়ুতে পৌঁছানোর জন্যও বিশেষ কিছু করার প্রয়োজন নেই। শুক্রাণু সাধারণত দেহের গতানুগতিক প্রক্রিয়াতে যোনিপথ থেকে খুব দ্রুত জরায়ুতে পৌঁছে যায়। তাই এই বিশেষ কাজগুলোর কোনোটাই গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় এমন কোন প্রমাণ নেই। তবে এতে আপনার ভালো লাগলে করতেই পারেন।

মোট কথা, বীর্য বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। বরং বাচ্চা নিতে চাইলে শুক্রাণু নারীদেহে একটা অনুকূল পরিবেশ পাচ্ছে কি না সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। মাসের কয়েকটা নির্দিষ্ট দিনে নারীদেহ শুক্রাণুর জন্য খুব সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে।

আরও খবর