বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

অন্নপূর্ণা যোজনায় কঠোর ঝাড়াইবাছাই, বিরোধীদের প্রশ্নের জবাব মুখ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬
অন্নপূর্ণা যোজনায় কঠোর ঝাড়াইবাছাই, বিরোধীদের প্রশ্নের জবাব মুখ্যমন্ত্রীর
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে বদলে নতুন রূপে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছে নতুন সরকার। কিন্তু এই নতুন প্রকল্প ঘিরেই গত কয়েক দিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছিল তীব্র চাপানউতোর। প্রশ্ন উঠেছিল অংকের হিসাব নিয়ে— পূর্বতন সরকারের বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য যা বরাদ্দ ছিল, নতুন সরকার বাজেটে তা বাড়িয়েছে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা। অথচ ভাতার পরিমাণ ১৫০০ টাকা থেকে একলাফে দ্বিগুণ করে ৩০০০ টাকা করা হয়েছে। মাত্র এক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দে কীভাবে মাসিক ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করা সম্ভব? বিরোধী শিবিরের তোলা এই মোক্ষম প্রশ্নেরই এবার সরাসরি জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের সরকারি মঞ্চ থেকে এই হিসেবের জটিল জট খুললেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, প্রকল্পের নাম বদলে সস্তা জনমোহিনী রাজনীতি করা তাঁদের লক্ষ্য নয়। বরং অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বণ্টনের আগে রাজ্যজুড়ে চলেছে এক নিবিড় ও কঠোর ঝাড়াইবাছাই প্রক্রিয়া। ভুয়ো উপভোক্তা ছেঁটে ফেলে প্রকৃত প্রাপকদের হাতেই যেন সরকারি টাকা পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেখতে হয় যাতে নিয়মের বাইরে কেউ না চলে যান। কারণ, এটা কোনও ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট দলের টাকা নয়। এটা সম্পূর্ণ সাধারণ মানুষের তথা সরকারের টাকা।” তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারের টাকা যাতে কেবল উপযুক্ত ও যোগ্য প্রাপকেরাই পান, এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাস করি। আর সেই কারণেই কড়া স্ক্রুটিনির মাধ্যমে বহু অযোগ্য নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত মাত্র এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেই আমরা প্রকৃত দুঃস্থ মহিলাদের দ্বিগুণ ভাতা দিতে পারছি।”
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পূর্বতন সরকারের আমলে এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বহু কোটি টাকার আর্থিক গরমিল ও অযোগ্য ব্যক্তিদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে কোমর বেঁধে নামে। প্রতিটি ব্লকে ডিজিটাল ভেরিফিকেশন এবং আধার সংযোগের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে তা বাতিল করা হয়েছে। ফলে উপভোক্তার সংখ্যা যেমন যৌক্তিক স্তরে নেমে এসেছে, তেমনই বেঁচে যাওয়া উদ্বৃত্ত টাকা এবং নতুন বরাদ্দের মেলবন্ধনে প্রত্যেক যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তিনি এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন। একদিকে যেমন সরকারি কোষাগারের অপচয় রুখে স্বচ্ছতার বার্তা দিলেন, অন্যদিকে মাত্র ১০০০ কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দে দ্বিগুণ ভাতা দেওয়ার ‘ম্যাজিক’ বুঝিয়ে বিরোধীদের মুখেও কুলুপ এঁটে দিলেন।