বাংলার গ্যাংস্টার
পর্ব - ৩
বিশেষ প্রতিবেদন: রেল শহর খরগপুর। এই শহরের আন্ডারওয়াল্ডের দুই ডন ছিলেন রামবাবু আর শ্রীনু। অনেকেই বলেন একই বনে দুটি বাঘ থাকেনা। আর কোনো কারণে দুটি বাঘ যদি এক জায়গায় অবস্থান করে তার পরিণতি কি হতে পারে তা দেখেছিল এই শহর।
নব্বইয়ের দশকে রেলের ছাঁট লোহার কারবারে খড়্গপুরে রামবাবুই ছিল শেষ কথা। সেই সময় রেলশহরে একের পর এক খুনের ঘটনায় নাম জড়াতে থাকে রামবাবুর। ত্রাস হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৯৭ সালে সিটু নেতা উদয় মাইতি ও ১৯৯৯ সালে সিপিআই সাংসদ নারায়ণ চৌবের ছেলে মানস চৌবে খুনে অভিযোগের আঙুল ওঠে রামবাবুর দিকে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গৌতম চৌবে খুনেও নাম জড়ায় রামবাবুর। ২০০১ সালের ৩ নভেম্বর হায়দরাবাদ থেকে রামবাবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০০৩ সালে রামবাবুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। এরপরে ২০১০ সালে জামিনে মুক্ত হয় রামবাবু।
রামবাবু জেলে থাকাকালীন খড়্গপুরের নিউ সেটেলমেন্ট এলাকার বাসিন্দা শ্রীনুর উত্থান। এলাকার দখল নেয় সে। কায়দা সেই একই। বোমাবাজি আর গুলি। লোহার ছাটের অধিকার তখন তার হাতে। রামবাবু জামিন পাওয়ার পরেও শ্রীনু জমি ছাড়েনি। রামবাবুর সঙ্গে তার সংঘাতও বাধে। ২০১০ সালে আদালতে যাওয়ার পথে রামবাবুর কনভয়ে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের তির ছিল শ্রীনুর দিকেই।
একাধিকবার পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করে। যদিও কিছুদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যায় সে।২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেয় শ্রীনু। তার স্ত্রী পূজা নায়ডুও গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। ভোটের সময়ে পুরনো একটি মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করে শ্রীনুকে।
২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলের ‘লেবার সেল’-এর সভায় তৃণমূলে যোগ দেয় শ্রীনুও। তা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। খড়্গপুরে নিউ সেটলমেন্টের ওই কার্যালয়ে প্রায়ই সময় কাটাত শ্রীনু। সেখান থেকেই কার্যত রাজ্যপাট চালাত সে। সেই কার্যালয়েই গুলিবিদ্ধ হয় শ্রীনু।

