হট টপিক
তৃণমূল জমানায় সর্বত্র দুর্নীতির খতিয়ান ক্যাগ রিপোর্টে
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পাঁচ বছরের শাসনকালের বেনিয়ম ও বিপুল আর্থিক দুর্নীতির খতিয়ান এবার প্রকাশ্যে এল। রাজ্য বিধানসভায় ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ এই চার অর্থবর্ষের মোট ২৮টি ক্যাগ (CAG) রিপোর্ট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আটকে থাকা এই অডিট রিপোর্টগুলো পেশ করে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, এই রিপোর্ট পর্যালোচনার মাধ্যমে পূর্বতন সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির আসল চেহারাটা মানুষের সামনে স্পষ্ট হবে।
ক্যাগ রিপোর্টে তৃণমূল জমানার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণে চরম অস্বচ্ছতা ও তছরূপের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় আমফানের ত্রাণ বণ্টন থেকে শুরু করে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ এবং ‘যুবসাথী’— প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভুয়ো উপভোক্তা সাজিয়ে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। সরকারি খাতার আয়-ব্যয়ের হিসেবেও ব্যাপক গরমিল খুঁজে পেয়েছেন হিসাব পরীক্ষকেরা। পূর্বতন শাসক দল বিধানসভায় এই রিপোর্ট পেশ না করে এতদিন এক চরম ‘সাংবিধানিক অপরাধ’ করেছিল বলেও বর্তমান সরকার সরব হয়েছে।
এই রিপোর্ট সামনে আসতেই বর্তমান শাসক দল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের পূর্বতন আর্থিক ব্যবস্থাপনার ভয়াবহ দুরবস্থার চিত্রটি তুলে ধরেন। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের সিএজি রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্যে বর্তমানে রাজস্ব ঘাটতি ৩৯,৭২৭ কোটি টাকা এবং রাজকোষ ঘাটতি ৬৪,৪৮৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রাজ্যের ঘাড়ে চেপে থাকা মোট ঋণের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৭.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
বিধানসভায় এই ২৮ খণ্ডের ক্যাগ রিপোর্ট পেশের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ক্যাগ রিপোর্টের এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলোকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের তরজা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকার পক্ষ জানিয়েছে, এই রিপোর্টগুলোর ওপর বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী দিনে বিধানসভার একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে।

