শুধু সৃষ্টির আকর্ষণ?
পারস্যের মরমী ইসলামিক সাধক-কবি জালালুদ্দীন রুমী নারী-পুরুষের সম্পর্কের বিষয়ে সুন্দর মতামত দিয়েছেন। তিনি বলছেন,জীবের সৃষ্টিগত স্বভাব নারীর প্রতি নরের আকৃষ্ট হওয়া, এ আকর্ষণ দুই শ্রেণীর। এক হলো শুধু কামভাবের জন্য, আর অন্যটি হল ভালবাসার জন্য। প্রথমটা ক্ষণস্থায়ী। কুকুর, বিড়াল,গরু,ছাগল, হাঁস-মোরগ ইত্যাদি পশু-পাখির মধ্যেও এটা রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকার আকর্ষণ একমাত্র মানুষের বৈশিষ্ট্য। কারণ, ভালবাসা একটি অতি উচ্চ মানের কুদরতী বস্তু, যা দয়া ও হৃদয়ের কোমলতার উপর নির্ভরশীল,যার জন্য জ্ঞানের প্রয়োজন। এজন্যই ভালবাসা শুধু মানবের বৈশিষ্ট্য, কারণ জ্ঞান মানবীয় বৈশিষ্ট্য। জীবজন্তুর মধ্যে ভালবাসা নেই,আছে কেবল আকর্ষণ, কামভাবের আকর্ষণ। সেই জন্যই তাদের পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী হয়। পশুপাখি ও তার বাচ্চাদের মধ্যে শুধু সৃষ্টির আকর্ষণ হয় কিন্তু ভালবাসা হয়না। তাই একটু বড় হওয়ার পর তাদের পরস্পরে মোটেই কোন সম্পর্ক থাকে না। মানুষের মধ্যে যারা জ্ঞানী, যাদের অন্তরে দয়া কোমলতা থাকে, তাদের মধ্যে ভালবাসাও থাকে,যার আকর্ষণে স্ত্রীরাই বস্তুত তাদের উপর প্রবল থাকে। অন্যদিকে স্বল্পজ্ঞানের মানুষ যাদের অন্তরে দয়া, কোমলতা থাকে না, তাদের ভালবাসাও থাকে না। তারা স্ত্রীদের উপর খুবই প্রবল থাকে। সামান্য ব্যাপারে মারপিট,গালি-গালাজ,ভয়ঙ্কর নির্যাতন, কঠোরতা করতে তারা মোটেও দ্বিধা করে না। জ্ঞানবান কোমল হৃদয়ের লোকেদের উপর নারীরা অত্যন্ত প্রবল হয়। পক্ষান্তরে অজ্ঞানী লোকেরা নারীদের উপর কঠোর দুর্ব্যবহারকারী হয়। কারণ এদের মধ্যে পশুত্বের প্রাবাল্য থাকে। কাম, ক্রোধ মোহ পশুত্বের গুণ। মানুষ যখন সম্পূর্ণ দেবভাবে উন্নীত হয় তখন নারী তাঁর কাছে মাতৃস্বরূপ হয়ে ওঠে।

