হট টপিক
রাজস্ব বাড়াতে একাধিক পরিকল্পনা অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মদ বিক্রি করে নয়, বরং কর ফাঁকি রোখা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যেই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বাড়াতে চায় রাজ্য সরকার। শনিবার বিধানসভায় ক্যাগ (CAG) রিপোর্ট পেশের পর বাজেট ও রাজস্ব বৃদ্ধি নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় এই রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। অর্থমন্ত্রীর দাবি, চলতি আর্থিক ট্রেন্ড বা প্রবণতা অনুযায়ী আগামী দিনে এই রাজ্য থেকে রাজস্ব আদায় অন্তত ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
এদিন বিধানসভায় কর কাঠামো নিয়ে বিরোধীদের একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পেশা কর (প্রফেশনাল ট্যাক্স) নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন। আমরা কিন্তু কর বাড়াইনি, বরং সরকারি খরচকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে রেখেছি।” রাজ্যে নতুন করে কোনও ‘ডবল ট্যাক্সেশন’ বা দ্বৈত কর চাপানো হচ্ছে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, দ্বৈত কর চাপানো হলে তা সত্যিই সাধারণ মানুষের জন্য চিন্তার কারণ হতো, কিন্তু বর্তমান সরকার তেমন কিছু করছে না।
বক্তব্যের একটি বড় অংশে অর্থমন্ত্রী রাজ্যের বদলে যাওয়া কর্মসংস্থানের পরিকাঠামো তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকারি কর্মীদের দেওয়া আয়কর সরাসরি রাজ্যের খাতা বা রাজকোষেই জমা পড়ে। কিন্তু অন্যান্য রাজ্যের মতো এ রাজ্যেও সরকারি কর্মীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে এবং বেসরকারি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কর্মী বাড়ছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মাথায় রেখেই রাজস্ব বাড়ানোর নতুন ভাবনাচিন্তা করছে নবান্ন। স্বপনবাবুর কথায়, “আমরা অসংগঠিত ক্ষেত্রকে (ইনফরমাল সেক্টর) এবার সংগঠিত ক্ষেত্রের (ফরমাল অর্গানাইজড সেক্টর) আওতায় নিয়ে আসতে চাই। এর ফলে করদাতার সংখ্যা ও রাজস্ব দুই-ই বাড়বে।”
রাজস্বের গ্রাফ উর্ধমুখী করতে একগুচ্ছ নতুন কৌশলের কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কর ফাঁকি রুখতে এবং কর আদায় প্রক্রিয়া আরও নিখুঁত করতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর সাহায্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি নজরদারি বা পুলিশিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, রাজ্যে যত ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, সামগ্রিকভাবে রাজ্যের লাভ ততটাই বাড়বে। অতীতে এ রাজ্যে জিএসটি (GST) আদায় তুলনামূলক কম হতো স্বীকার করে নিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, জিএসটি কালেকশন বাড়লে তার সরাসরি সুফল পাবে রাজ্যই।

