হট টপিক
বাতিলের মুখে উত্তরবঙ্গের চা, কিনতে অনাগ্রহী বড় কোম্পানিরা
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: নির্ধারিত মাত্রার থেকে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ (পেস্টিসাইড রেসিডিউ) বেশি থাকলে উত্তরবঙ্গের উৎপাদিত চা আর কেনা হবে না। দেশের একাধিক প্রথম সারির প্যাকেটজাত চা প্রস্তুতকারক সংস্থা চিঠি দিয়ে এই কড়া সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স, তরাই ও পাহাড়ের চা বাগানের উৎপাদিত চায়ের এক বিপুল পরিমাণ বরাত বাতিল হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়িক সূত্রে খবর, দেশের খুচরো চায়ের বাজারের সিংহভাগই নিয়ন্ত্রণ করে দুই প্রধান সংস্থা— হিন্দুস্তান ইউনিলিভার (HUL) এবং টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস্ লিমিটেড (TCPL)। সর্বশেষ এপ্রিল মাসের বাজার সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট খুচরো চায়ের বাজারের প্রায় ৫৫ শতাংশই এই দুই বৃহৎ সংস্থার দখলে রয়েছে। সম্প্রতি হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের তরফে চা সরবরাহকারীদের কাছে একটি কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এখন থেকে দেশের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ামক সংস্থা 'এফএসএসএআই' (FSSAI)-এর সমস্ত ছাড়পত্র এবং কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট মাপকাঠি মেনেই তারা চা কিনবে। নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে সরবরাহ করা চায়ের নমুনা পরীক্ষা করা হবে সংস্থার নিজস্ব 'এনএবিএল' (NABL) স্বীকৃত পরীক্ষাগারে।
চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর আগেও উত্তরবঙ্গের উৎপাদিত চায়ের নমুনায় নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ ক্ষতিকারক কীটনাশকের উপস্থিতি মিলেছিল। এই পরিস্থিতিতে বড় বড় ব্র্যান্ডগুলি গুণমানের প্রশ্নে সুর চড়ানোয় উত্তরবঙ্গের চা বাগান মালিক ও ক্ষুদ্র চা চাষিরা চরম বিপাকের মুখে পড়েছেন। নিয়ম মেনে কীটনাশকের ব্যবহার না কমালে আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের ভবিষ্যৎ বড়সড় সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

