আধ্যাত্মিক খাদ্য চাই
স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯৫ সালের ১১ই এপ্রিল আমেরিকা থেকে স্বামীর রামকৃষ্ণানন্দকে লিখছেন, "মহোৎসব খুব ধুমধাম এর সহিত হয়ে গেছে,ভাল কথা। আসছে বারে এক লাখ লোক যাতে হয় তারই চেষ্টা করতে হবে বইকি। মাস্টার মহাশয় প্রভৃতি ও তোমরা এককাট্টা হয়ে একটা কাগজ যাতে বার করতে পারো, তার চেষ্টা করো দেখি।---অনন্ত ধৈর্য্য, অনন্ত উদ্যোগ যাহার সহায়, সেই কার্যে সিদ্ধি হবে। পড়াশুনাটা বিশেষ করা চাই, বুঝলে শশী? মেলা মুখ্যু- ফুখ্যু জড়ো করিসনি বাবু। দুটো চারটে মানুষের মতো—এককাট্টা কর দেখি। একটা মিউও যে শুনতে পাইনি। তোমরা মহোৎসবে তো লুচি-সন্দেশ বাঁটলে, আর কতগুলো নিষ্কর্মার দল গান করলে-----তোমরা কী স্পিরিচুয়াল ফুড (আধ্যাত্বিক খোরাক) দিলে, তা তো শুনলাম না?" অজ্ঞানবশত আমরা দেহকেই সত্য বলে মনে করি এবং জাগতিক সুখ অন্বেষণের চেষ্টা করে দুঃখ ভোগ করি। তাতেই যে ক্ষুদ্র সুখ পাই, তা সেই অনন্ত আনন্দের একটি ছায়া মাত্র। নিঃস্বার্থ সেবার মনোভাব নিয়ে, অনাসক্ত হয়ে জীবনের কর্তব্যগুলি পালন করে যেতে হবে। ঈশ্বর আরাধনা ও ধ্যানের জন্য সময় বের করে নিতে হবে। আমাদের জীবনের অবসর মুহূর্তগুলি ঈশ্বর চিন্তায় ভরিয়ে তুলতে হবে। তাঁর প্রতি আমরা যেন সর্বদা অটুট ভরসা রাখতে পারি। এই অনিত্য জগতে নিত্য বা শাশ্বত বস্তু কিইবা আছে? আমরা কাউকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাই অথচ যে কোন দিন হয়তো তার মনোভাব পরিবর্তন হতে পারে। অথবা সে মৃত্যুমুখে পতিত হতে পারে। এ জগতে এমন কিছু আছে কি যা পরিবর্তিত হয় না? যদি থাকে, তবে তা কোথায়? এইরকম চিন্তা থেকেই আধ্যাত্মিক জীবনের সূত্রপাত হয়। সত্যের একটি আভাস পাওয়ার পরই প্রকৃত আধ্যাত্মিকতার সূচনা হয়। ঈশ্বর চিন্তা অন্য যেকোনো কিছুর তুলনায় আমাদের অনেক বেশি সজীবতা প্রদান করে।, এমনকি গভীর নিদ্রার থেকেও বেশি আরাম দেয়। কিন্তু আধ্যাত্মিক খাদ্যের প্রতি আমাদের কোন ঝোঁক নেই। এমনকি, পাওয়া গেলেও আমরা তা গ্রহণ করতে চাই না। আধ্যাত্মিক ক্ষুধার একান্ত অভাব আমাদের। প্রতিদিন জপ, ধ্যান ও প্রার্থনারূপ আধ্যাত্মিক খোরাক- এর প্রতি আমাদের আকৃষ্ট হতে হবে এগুলি হল আত্মার খাদ্য। অনেকেই শুভ সংস্কার নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং খুব অল্প বয়স থেকেই আধ্যাত্মিক মানসিকতা সম্পন্ন হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে উজ্জ্বল আধ্যাত্মিক ভবিষ্যতের লক্ষণও দেখা যায়। তবুও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য প্রতিদিন সাধনা চালিয়ে যেতে হয়।

