আসক্তি সবচেয়ে নিষ্ঠুর
আসা- যাওয়া মিলেই সংসার। এই দুই- এর মাঝখানে কোন বিচ্ছেদ নেই। বিচ্ছেদ আমরা মনে মনে কল্পনা করি। সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়- একেবারেই এক হয়ে আছে। সেই এক হয়ে থাকাকেই বলে জগৎসংসার। যেমন একটি দিনের অবসান আর অন্য একটি দিনের শুরুতে কোন বিচ্ছেদ নেই। আসা- যাওয়া, জন্ম- মৃত্যু দুটিই তাঁর ইচ্ছাধীন। জীবন বড়ো কঠিন। সে সবই চায়, সবই আঁকড়ে ধরে। তার বজ্রমুষ্টি কৃপণের মতো কিছুই ছাড়তে চায় না। মৃত্যুই তার কঠিনতাকে রসময় করে তুলেছে ; তার আকর্ষণকে আলগা করেছে। মৃত্যুই তার নীরস চোখে জল এনে দেয়, তার পাষাণস্থিতিকে বিচলিত করে। আসক্তির মতো নিষ্ঠুর কিছুই নেই। সে নিজেকেই জানে, সে কাউকে দয়া করে না, সে কারো জন্য কিছুমাত্র পথ ছাড়তে চায় না। এই আসক্তিই হচ্ছে জীবনের ধর্ম ; সমস্তকেই সে নেবে বলে সকলের সঙ্গেই কেবল লড়াই করছে। ত্যাগ বড় সুন্দর, বড় কোমল। সে দ্বার খুলে দেয়। সঞ্চয়কে সে কেবল এক জায়গায় স্তুপাকাররূপে উদ্ধত হয়ে উঠতে দেয় না। সে ছড়িয়ে দেয়, বিলিয়ে দেয়। মৃত্যুরই সেই ঔদার্য। মৃত্যুই পরিবেশন করে, বিতরণ করে। সংসারের উপরে মৃত্যু আছে বলেই আমরা ক্ষমা করতে পারি। নইলে আমাদের মনটা কিছুতেই নরম হতো না। সব যায়, চলে যায়, আমরাও যাই। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু আছে এটি ভুলে গিয়েই আমরা আরো বেশি ভোগ লালসায় আসক্ত হয়ে উঠি। কিন্তু এই বিদায়ের সুরটি যখন কানে এসে পৌঁছায় তখন ক্ষমা খুবই সহজ হয়ে যায়, তখন বৈরাগ্য নিঃশব্দে এসে আমাদের নেওয়ার জেদটাকে দেওয়ার দিকে আসতে আসতে ফিরিয়ে দেয়। কেবল কেড়ে নেব, কেবল মারব, এই করে কোন সুখ কোন সার্থকতা পাওয়া যায় না । যিনি সমস্ত গ্রহণ করেন আজ তাঁর সম্মুখে এসে ছাড়বো এবং মরবো এই কথাটা আমাদের মন বলুক। হয়তো এটা এক মুহূর্তে পারবো না তবু ওইদিকেই মন নত হোক।

