বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
সর্বশেষ খবর

সুযোগসন্ধানীদের রুখতে কড়া বার্তা শমীকের

প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৬
সুযোগসন্ধানীদের রুখতে কড়া বার্তা শমীকের
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির অন্দরে থাকা সুযোগসন্ধানী এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলে থেকে যারা নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টা করছেন বা বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলের পতাকা ব্যবহার করে কোনো রকম এলাকা দখলদারি, সিন্ডিকেট বা বেআইনি কারবারের চেষ্টা করা হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এমনকি এই ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে যদি দলের কোনো বিধায়ক বা সাংসদের নামও জড়ায়, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই কড়া অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। সাধারণত দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে অন্য দল থেকে নেতা-কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দেন। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করার চেষ্টা করেন, তবে দল তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। তিনি কড়া ভাষায় বার্তা দিয়েছেন যে, আদর্শ মেনে যারা কাজ করবেন, কেবল তারাই দলে থাকবেন; কোনো অপরাধীর জায়গা বিজেপিতে হবে না। হাবড়ার প্রফুল্লনগরে এক কর্মসূচিতে এসে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তাই হল বিভাজন বা দখলদারির রাজনীতি নয়। পশ্চিমবঙ্গকে হিংসামুক্ত করা। সেই লক্ষ্যেই দল চলবে। শুধু বিরোধী রাজনীতির সমালোচনাই নয়, এদিন সংগঠনের অন্দরেও কড়া বার্তা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, চার ঘণ্টার বিজেপি হয়ে যাওয়া একাংশ বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হাবড়া, অশোকনগর, পুরুলিয়া থেকে ডুয়ার্স—সর্বত্রই এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি তাঁর। এদের অধিকাংশই আগে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এতদিন তারা লুটপাট চালাত। এখন বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নির্বাচন ও বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে সংগঠনের ভিত শক্ত করতেই এই নতুন কৌশল নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে যাতে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা বা ক্ষমতার লড়াই তৈরি না হয়, এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি যেন স্বচ্ছ থাকে, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে সরব হওয়া বিজেপি দল যাতে নিজেদের অন্দরে থাকা কোনো কালিমার কারণে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস না হারায়, সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সভাপতির এই কঠোর মনোভাব।
শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া বার্তার পর দলের জেলা স্তরের নেতৃত্ব এবং বিধায়ক-সাংসদদের ওপর চাপ অনেকটাই বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, রাজ্য সভাপতির এই হুঁশিয়ারির পর দলের অন্দরে থাকা সুযোগসন্ধানীদের বিরুদ্ধে আগামী দিনে ঠিক কী কী ব্যবস্থা নেয় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।

আরও খবর