সর্বশেষ খবর
কলকাতা বিমানবন্দর চত্বর থেকে সরানো হবে ১৩৬ বছরের পুরনো মসজিদ
প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (দমদম বিমানবন্দর) অত্যন্ত সুরক্ষিত ও স্পর্শকাতর রানওয়ে এলাকা থেকে অবশেষে ১৩৬ বছরের পুরনো মসজিদটি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিমান চলাচল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বহু বছর ধরে এই দাবি উঠলেও, নানা আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় তা আটকে ছিল। তবে সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসন এই বিষয়ে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে।
কোথায় সমস্যা তৈরি করছিল এই মসজিদ?
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯০-এর দশকে তৈরি হওয়া এই ‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’ (যা স্থানীয়ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত) বিমানবন্দর তৈরির আগে থেকেই ওই স্থানে রয়েছে। পরবর্তীতে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের সময় আশেপাশের জনবসতি সরিয়ে দেওয়া হলেও মসজিদটি রানওয়ের অত্যন্ত কাছেই থেকে যায়।
• দূরত্ব: এটি বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি বা দ্বিতীয় রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত।
• আন্তর্জাতিক নিয়ম: আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নিয়ম (Aviation Rules) অনুযায়ী, সচল রানওয়ের ২৪০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থায়ী কাঠামো থাকা নিষিদ্ধ।
• বিমানের সমস্যা: এই কাঠামোর কারণে বড় বড় আন্তর্জাতিক বিমান ও বড় বডির (Wide-body) উড়োজাহাজ নামার ক্ষেত্রে চরম সমস্যা হতো এবং কুয়াশার সময়েও রানওয়ের আধুনিক দিকনির্ণয় ব্যবস্থা (Advanced ILS) পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। তাছাড়া, যেকোনো সময় বিমান দুর্ঘটনার একটি বড় আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা।
সরেজমিনে তদন্ত ও বিকল্পের সন্ধান
বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন এবং ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (AAI) যৌথভাবে এই সমস্যার সমাধানে তৎপর হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং টেকনিক্যাল টিম ওই মসজিদ এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়ে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামার প্রধান সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গেও রাজ্য প্রশাসন ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আলোচনা শুরু করেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরের বাইরে একটি বড় বিকল্প জমি এবং নতুন মসজিদ তৈরির সম্পূর্ণ ব্লুপ্রিন্ট নিয়ে আলোচনা করছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত বড়সড় জট এবার কাটার মুখে, যা কলকাতার বিমান পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণে এক ঐতিহাসিক মোড় আনতে চলেছে।

