বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
অবকাশ

কেবল রসনাতৃপ্তি নয়, এই ফল আসলে নানা রোগের মহৌষধ

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট, ২০২৬
কেবল রসনাতৃপ্তি নয়, এই ফল আসলে নানা রোগের মহৌষধ
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

বিশেষ প্রতিবেদন: ঋতু পরিবর্তনের পালায় বর্ষা শেষ হয়ে যখন ভাদ্রের ভ্যাপসা গরম জানান দেয়, তখনই বাংলার ঘরে ঘরে সুবাস ছড়াতে শুরু করে পাকা তাল। তালের বড়া, তালক্ষীর, কিংবা তালের লুচি— এই মরসুমে বাঙালির রসনাতৃপ্তিতে তালের জুরি মেলা ভার। তবে তাল শুধু জিভের স্বাদই বাড়ায় না, আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের মতে, এই ফল শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ১০০ গ্রাম পাকা তালে প্রায় ৮৭ কিলো ক্যালরি খাদ্যশক্তি থাকে। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরকে নানা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে।
পাকা তাল খেলে কী কী উপকার হয়? তালে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকে। নিয়মিত তাল খেলে বয়সজনিত কারণে হাড়ের ক্ষয় হওয়া এবং দাঁতের সমস্যা দূর হয়। পাকা তালে ভালো পরিমাণে খাদ্য আঁশ বা ফাইবার থাকে। এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের একটি দারুণ উৎস হলো তাল। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে মরসুমি সর্দি-কাশি বা ইনফেকশনের ঝুঁকি কমে। তালে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা ফ্রি-র‌্যাডিক্যালস দূর করে। এটি ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করার পাশাপাশি ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। 
পুষ্টিবিদদের মতে, পাকা তাল ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে স্মৃতিশক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া বুক ধড়ফড় করার সমস্যা থাকলে দুধের সঙ্গে সামান্য তালের রস মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

কখন এবং কীভাবে খাওয়া উচিত?সাধারণত ভাদ্র ও আশ্বিন মাসই পাকা তাল খাওয়ার উপযুক্ত সময়। তবে ফল বা ফলের রস খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। সকালের জলখাবার বা দুপুরের হালকা খাবারের বিরতিতে তালের তৈরি পদ খাওয়া সবচেয়ে ভালো। ফল বা ফলের রস শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। পাকা তাল বেশ ভারী এবং আঁশযুক্ত খাবার। তাই একদম খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর আগে তাল না খাওয়াই ভালো। রাতে খেলে হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।  চিকিৎসকদের মতে, তাল সবসময় পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত পাকা তাল বেশি মাত্রায় খেলে পেটে অস্বস্তি হতে পারে।

পাকা তালে প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ) ভালো পরিমাণে থাকে। তাই যাঁদের ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অত্যন্ত সীমিত পরিমাণে তাল বা তালের তৈরি মিষ্টি পদ খাবেন। এ ছাড়া তালের বড়া বা ফুলুরি ভাজার সময় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করা হয়, যা বেশি খেলে অ্যাসিডিটি হতে পারে। তাই স্বাদের সঙ্গে স্বাস্থ্যের খেয়াল রেখে পরিমিত পরিমাণে তাল উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও অবকাশ খবর