বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জীবনযাপন

তীব্র গরমে আপনার শিশুকে সুস্থ রাখতে এগুলি করুন 

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬
তীব্র গরমে আপনার শিশুকে সুস্থ রাখতে এগুলি করুন 
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ চলতি মরশুমে তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। বড়দের পাশাপাশি এই অসহ্য গরমে  কষ্ট পাচ্ছে শিশু এবং নবজাতকেরা। শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বড়দের মতো উন্নত নয়, ফলে তারা দ্রুত ডিহাইড্রেশন বা হিট স্ট্রোকের শিকার হতে পারে। এই মরশুমে আপনার বাড়ির খুদে সদস্যটিকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা নিচে আলোচনা করা হলো।

১. পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার দিন -
•    বুকের দুধ খাওয়ানো: ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে গরমে জল খাওয়ার প্রয়োজন নেই। এই সময় ঘন ঘন মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে, কারণ এর মধ্যেই পর্যাপ্ত জল থাকে।
•    পর্যাপ্ত জলপান: ৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুদের ফুটিয়ে ঠান্ডা করা জল, ডাবের জল, কিংবা বাড়িতে তৈরি তাজা ফলের রস অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ান।
•    ওআরএস (ORS): শিশু যদি খুব বেশি ঘেমে যায় বা ক্লান্ত বোধ করে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওআরএস-এর জল খাওয়াতে পারেন। কোনোভাবেই অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কৃত্রিম কোল্ড ড্রিঙ্কস, আইসক্রিম দেবেন না।
২. ত্বকের যত্ন
•    সুতির পোশাক: গরমে শিশুদের সবসময় হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরানো উচিত। এতে শরীরের বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যায়।
•    ঘামাচির সমস্যা: গরমের কারণে শিশুদের পিঠে বা ঘাড়ে ঘামাচি হতে পারে। দিনে অন্তত দুবার পরিষ্কার নরম কাপড় জলে ভিজিয়ে শিশুর শরীর মুছে দিন। ঘামাচি পাউডার ব্যবহারের চেয়ে জায়গাটি শুকনো রাখা বেশি জরুরি।
•    ডায়াপার বদল: এই গরমে দীর্ঘক্ষণ ডায়াপার পরিয়ে রাখলে র‍্যাশ বা ইনফেকশন হতে পারে। তাই যতটুকু সম্ভব ডায়াপার ছাড়া রাখুন এবং নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
৩. ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখুন
•    সরাসরি হাওয়া নয়: এসি বা ফ্যানের হাওয়া যেন সরাসরি শিশুর গায়ে না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘরের এসি-র তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা আদর্শ। যাতে এসির হাওয়ায় ঠান্ডা না লেগে যায় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
•    দুপুরের রোদ এড়ান: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত তীব্র রোদ থাকে। এই সময়ে শিশুদের কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের করবেন না। ঘরের জানলায় ভারী পর্দা টেনে ঘর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন।
৪. স্নান এবং পরিচ্ছন্নতা
•    নিয়মিত স্নান: প্রতিদিন হালকা গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলে শিশুকে স্নান করান। তবে দীর্ঘক্ষণ জলে বসিয়ে রাখবেন না বা অতিরিক্ত ঠান্ডা জলে স্নান করাবেন না। এতে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।
•    তেল ও ক্রিমের ব্যবহার: এই তীব্র গরমে শিশুদের শরীরে অতিরিক্ত তেল, ভারী লোশন বা ক্রিম মাখানো বন্ধ রাখুন। এগুলি ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দিয়ে ঘামাচি বা ফুসকুড়ির সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
৫. জরুরি লক্ষণ যা দেখলে ডাক্তারের কাছে যাবেন
যদি আপনার শিশুর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলি দেখা যায়, তবে দেরি না করে অবিলম্বে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন:
•    প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া (৬ ঘণ্টায় একবারও প্রস্রাব না করা)
•    অতিরিক্ত কান্নাকাটি করা বা শরীর একদম নিস্তেজ হয়ে পড়া
•    ঠোঁট এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া
•    শরীরের তাপমাত্রা বা জ্বর আসা
•    অনবরত বমি বা পাতলা পায়খানা হওয়া
তবে এই গরমে কেমন ভাবে যত্ন নেবেন তা আপনার চিকিৎসককে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করুন।

আরও জীবনযাপনের খবর